রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন

সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ হাজার কোটি টাকা হারালেন বিনিয়োগকারীরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২০
  • ১১৫ বার পঠিত

মূল্যসূচকের বড় পতনের সাথে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের মধ্য দিয়ে গত সপ্তাহ শেষ করেছে দেশের শেয়ারবাজার। এতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা হারালেন বিনিয়োগকারীরা। এর মাধ্যমে টানা চার সপ্তাহে ১২ হাজার কোটি টাকার ওপরে হারালেন বিনিয়োগকারীরা। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে এ অর্থ হারালেন তারা।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৯১ হাজার ২৫১ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল তিন লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে পাঁচ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা।

আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন কমে এক হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। তার আগের সপ্তাহে কমে এক হাজার ১২৩ কোটি টাকা এবং তার আগের সপ্তাহে কমে তিন হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এ হিসাবে টানা চার সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১২ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা। বাজার মূলধন কমার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ কমেছে।

এ দিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৬৭ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৪১ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৬ শতাংশ। অবশ্য তার আগের দুই সপ্তাহ সূচকটি কমে। ওই সপ্তাহে সূচকটি কমে ১২৩ পয়েন্ট। প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহে কমেছে ডিএসইর অপর দুই সূচক। এর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমেছে ১৫ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১ দশমিক ২০ পয়েন্ট বা দশমিক ১১ শতাংশ। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ১২ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৩ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২১ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩২ শতাংশ।

মূল্য সূচকের পতনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০৬টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ২১০টির। আর ৪৪টির দাম অপরিবর্তিত।
সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৯৯০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৮৪৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ১৪২ কোটি ৪২ লাখ টাকা বা ১৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে তিন হাজার ৯৬২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় চার হাজার ২৪০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ২৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মোট লেনদেন কমার কারণ দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত সপ্তাহে এক কার্যদিবস কম লেনদেন হয়।

তিন মাস নয়, এক মাসের মধ্যেই আইপিওর অনুমোদন : শিবলী রুবাইয়াত : তিন মাসে নয়, সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে এক মাসের মধ্যেই কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসির) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

তিনি বলেন, গত তিন থেকে চার বছরের জমে থাকা আইপিওর আবেদনগুলো প্রায় শেষ। নতুন করে যেসব কোম্পানি আবেদন করবে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুমোদন দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে তিন মাস নয়, কাগজপত্র ঠিক থাকলে এক মাসের মধ্যে অনুমোদন দেয়া হবে। আমরা আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সময় ক্ষেপণ করব না।

গতকাল শনিবার ‘পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং টেকসই উন্নয়ন’ নিয়ে আয়োজিত ওয়েবিনারের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) যৌথভাবে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে ভালো আইপিও আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আইপিও অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানির বিগত বছরগুলোর ব্যবসা পর্যালোচনা করছি। বিশেষ করে কোম্পানিটির পেইড-আপ ক্যাপিটাল (পরিশোধিত মূলধন) কত এবং পাঁচ বছরের ট্যাক্স রেকর্ড বিশ্লেষণ করছি।

মিউচুয়াল ফান্ডকে আরো জনপ্রিয় করতে চাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে অনেক ফান্ড বিনিয়োগকারীদের কোনো রিটার্ন দিচ্ছে না, এটা ঠিক না। এ সময়ে অনেক মিউচুয়াল ফান্ড লভ্যাংশ দিলেও কিছু ফান্ড দিচ্ছে না। কারো চাপে নয়, বাজারের জন্যই পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের প্রকৃত রূপ দিতে চাই। পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) পুনঃসংস্কার করার কথা জানিয়ে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, আইসিবিকে ফান্ড দিয়ে আরো শক্তিশালী করতে হবে।

বাজারের নেগেটিভ ইক্যুইটিগুলো দূর করতে বিশেষ ফান্ড আসছে। সুদ কমিয়ে আনা হবে। তিনি আরো বলেন, বাইব্যাক পদ্ধতি চালু করা হবে। এ ক্ষেত্রে বাইব্যাক পলিসির কাজ করা হচ্ছে। বাইব্যাকের জন্য কোম্পানি আইনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। বাজার গ্রিন ফিল্ড কোম্পানি আনা হবে। এ ক্ষেত্রে ই-কমার্স কোম্পানিগুলোকে অনুমতি দেয়া হবে। অর্থাৎ একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তোলা হবে।
পুঁজিবাজার ডিজিটাইলড করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশ থেকে একটি টিম আসছে। চলতি সপ্তাহে ডিএসই পরিদর্শন করবে। পুঁজিবাজারকে ডিজিটাইল করা হবে।

তিনি বলেন, সিডিবিএলের সাথে আলোচনা হয়েছে। ন্যাশনাল আইডির মাধ্যমে কিভাবে অনলাইনে বেনিফিশিয়ারি একাউন্ট (বিও) খোলা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট শামস মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেনÑ বিএমবিএর সভাপতি ছায়েদুর রহমান ও সিএমজেএফের সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমবিএর ভাইস-প্রেসিডেন্ট মো: মনিরুজ্জামান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, দেশের সব ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব প্রতিষ্ঠানকে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নয়। আমরা চাই কর জিডিপি রেশিও বাড়াতে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে ডে ট্রেডিংয়ের মতো আমাদের বিনিয়োগ, এটাকে দীর্ঘ মেয়াদি হতে হবে। বিভিন্ন গ্রিনফিল্ড কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসা উচিত। আমরা ফান্ডের জন্য ব্যাংকে যেতে চাই না। পুঁজিবাজার থেকে ফান্ড উত্তোলন করতে চাই। আমরা উদ্যোক্তারা পুঁজিবাজার থেকে অর্থ নিতে প্রস্তুত।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41