বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ ::
সোনালী ব্যাংকের এডি ব্রাঞ্চের সাথে এমডির মতবিনিময় ব্যাংক মালিক ও বাংলাদেশ ব্যাংক লুটপাটকারী ও ঋণ খেলাপিদের সুযোগ করে দিচ্ছে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে কাজ করছে বিএসইসি: শিবলী রুবাইয়াত ব্যাংকিং খাত সংস্কারে স্বাধীন কমিশন গঠনসহ টিআইবির ১০ সুপারিশ অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. শামছুল আলম ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ কোটি ডলারের অবৈধ লেনদেন:ফিনসেনের নথি ফাঁস হিসাব খোলা, আর্থিক লেনদেন সবকিছুর ভরসা মোবাইল ব্যাংকিং পোশাক শিল্প মালিকরা ঋণ শোধে পাঁচ বছর সময় চান সূচকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চার স্তরে মার্জিন ঋণ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিএবির ১৬৪ কোটি টাকা অনুদান

এনআরবি ব্যাংক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৭ পরিচালকের অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৮৮৮ বার পঠিত

এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের সাত উদ্যোক্তা পরিচালক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমানের (নাসির) এবং ভাইস চেয়ারম্যান তাতিয়ামা কবিরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ১১ দফা অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—নীতিমালা লঙ্ঘন করে চেয়ারম্যান কর্তৃক ব্যাংকে পারিবারিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জোর করে ছুটিতে পাঠানো, ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির ক্ষমতা খর্ব করা, গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা, ঋণখেলাপি হয়েও ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ আঁকড়ে রাখা, ব্যাংককে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করা।

লিখিত আবেদনে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ও ৪৯ ধারা অনুযায়ী এনআরবি ব্যাংকে হস্তক্ষেপের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে। এ দুটি ধারায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পুনর্গঠন, অনিয়ম উদ্ঘাটনে বিশেষ পরিদর্শন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে পর্যবেক্ষক নিয়োগের বিধান রয়েছে।

চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমানের পাশাপাশি এনআরবি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান তাতিয়ামা কবিরের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাত পরিচালক। নিয়ম লঙ্ঘন করে তিনি নিয়মিত ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে বসে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতিটি কাজে হস্তক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগকারীরা হলেন এনআরবি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ, নির্বাহী কমিটির (ইসি) চেয়ারম্যান এম বদিউজ্জামান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ড. নাসের আহমেদ চৌধুরী, ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ, অডিট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নাভেদ রশিদ খান, পরিচালক মোহা. ইদ্রিস ফরায়েজী ও বিকল্প পরিচালক আমিনুর রশিদ খান। গত ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বরাবর তারা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন বলে জানা যায়।

পরিচালকদের এ অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি’ বিভাগ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিগগিরই এ কমিটি এনআরবি ব্যাংকে বিশেষ পরিদর্শন চালাবে বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ বর্তমানে এনআরবি ব্যাংকে বিশেষ নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই ব্যাংকটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিচালকদের লিখিত অভিযোগ কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক পেয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। যেকোনো ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের আমানতের সুরক্ষা দেয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর। এ দায়িত্ব পালনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবসময়ই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। প্রয়োজনের নিরিখে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর ব্যবস্থাও নিয়ে থাকে। এনআরবি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না।

২০১২ সালে অনুমোদন পাওয়া চতুর্থ প্রজন্মের নয়টি ব্যাংকের একটি এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড। ২০১৬ সাল থেকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান। তিনি দুবাইভিত্তিক আল-হারামাইন নামে একটি পারফিউম কোম্পানির স্বত্বাধিকারী। গভর্নরের কাছে দেয়া চিঠিতে এনআরবি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানসহ সাত পরিচালক অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাহতাবুর রহমান এনআরবি ব্যাংকে পারিবারিক কর্তৃত্ব স্থাপনে উদ্যোগী হন। এজন্য তিনি ব্যাংকের আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনের ২২ ধারা লঙ্ঘন করে স্ত্রী, পুত্র, ভাই, মেয়ে জামাই, পুত্রবধূ ও ভাজিতাদের নামে শেয়ার কেনেন। ব্যাংকের ১১ জন পরিচালকের কাছ থেকে তিনি এ শেয়ার কিনেছেন। এক্ষেত্রে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য খারাপ করে পরিকল্পিতভাবে তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য করেছেন বলে অন্য পরিচালকরা অভিযোগ তুলেছেন। এনআরবি ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করে দেয়া উদ্যোক্তারা হলেন—মালয়েশিয়া প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার একরামুল হক, ইতালি প্রবাসী ইদ্রিস ফরায়েজী ও জাহাঙ্গীর ফরায়েজী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবদুল কাইয়ুম খালেক ও তার দুই ভাই, ড. কাজী মাহফুজুল হক, ড. উদ্দিন আহমেদ আফসার, ড. বদরুল আমিন সিদ্দিকী, রফিক মিয়া ও কানাডা প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41