মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:২৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ ::
সোনালী ব্যাংকের এডি ব্রাঞ্চের সাথে এমডির মতবিনিময় ব্যাংক মালিক ও বাংলাদেশ ব্যাংক লুটপাটকারী ও ঋণ খেলাপিদের সুযোগ করে দিচ্ছে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে কাজ করছে বিএসইসি: শিবলী রুবাইয়াত ব্যাংকিং খাত সংস্কারে স্বাধীন কমিশন গঠনসহ টিআইবির ১০ সুপারিশ অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. শামছুল আলম ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ কোটি ডলারের অবৈধ লেনদেন:ফিনসেনের নথি ফাঁস হিসাব খোলা, আর্থিক লেনদেন সবকিছুর ভরসা মোবাইল ব্যাংকিং পোশাক শিল্প মালিকরা ঋণ শোধে পাঁচ বছর সময় চান সূচকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চার স্তরে মার্জিন ঋণ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিএবির ১৬৪ কোটি টাকা অনুদান

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬৮২ বার পঠিত

গাজীপুরে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীপুর শাখায় গ্রাহকের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্তকৃতরা হলেন- ওই ব্যাংক শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. নজরুল ইসলাম, ক্যাশ অফিসার বদরুল হাসান সনি ও ক্যাশ অফিসার মো. দোলোয়ার হোসেন।

অগ্রণী ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন জানান, এভাবে ব্যাংকের টাকা কারো একার পক্ষে তুলে আত্মসাৎ করা সম্ভব নয়। কী পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে তা জানতে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে অডিট চলছে। গত ৩১ আগস্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা করা টাকার গড়মিলের তথ্য ও অভিযোগ নিয়ে গ্রাহকরা এসেছেন। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা উদ্ধার করে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জমা করা সম্ভব হয়েছে।

শাখাটির গ্রাহক বদরুন নাহার গত ২৭ আগস্ট ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত এক আবেদনে বলেন, ‘সম্প্রতি আমার অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা জমা করি। বদরুল হাসান সনি প্রতারণা করে আমার কাছ থেকে চেক বইয়ের একটি পাতা নেন। পরবর্তীতে ওই চেকের মাধ্যমে তিনি আমার হিসাব থেকে এক লাখ টাকা তুলে নেন। বিষয়টি ধরা পড়লে ব্যাংক ম্যানেজারের মাধ্যমে আমার অ্যাকাউন্টে ওই টাকা জমা দেন সনি।’

একই অভিযোগ তোলেন আরেক গ্রাহক জুয়েনা বেগম। তার স্বামী ও ছেলে সৌদি আরবে কাজ করেন। সেখান থেকে তার অ্যাকাউন্টে তারা টাকা পাঠান। ১৩ জুলাই তিনি ওই অ্যাকাউন্টের তথ্য জানতে গিয়ে দেখেন ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা কম। পরে বিষয়টি শাখা ব্যবস্থাপককে জানালে ১৪ জুলাই ৫ লাখ এবং ১৫ জুলাই ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা তার অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়। বদরুল হাসান সনির বিরুদ্ধে ওই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে দুই ধাপে ওই টাকা তার হিসাবে জমা করা হয়।

অপর গ্রাহক আফতাব উদ্দিন জানান, ৪ জুন ৩ লাখ টাকা তার হিসাবে জমা করেন। ২২ আগস্ট বিকালে ম্যানেজার জমা ও চেক বইসহ কাগজপত্র নিয়ে তাকে ফোন করে ব্যাংকে যেতে বলেন। পরদিন ব্যাংকে গেলে ম্যানেজার জানান তার অ্যাকাউন্টে তিন লাখ টাকা কম আছে। পরে ব্যবস্থাপকের কাছে তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করার পর সনি ২৩ জুলাই ওই টাকা তার অ্যাকাউন্টে জমা করেন।

এ ব্যাপারে ওই ব্যাংকের সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রিন্সিপাল অফিসার মো. নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ক্যাশ অফিসার বদরুল ইসলাম সনি নিজেই গ্রাহকের স্বাক্ষর নকল করে চেক বই উত্তোলন করেছেন ওইসব চেক এন্ট্রি করার সময় চেকের নম্বর এন্ট্রি না করেই টাকা তুলে নিয়ে গেছেন সনি। এ ঘটনা ধরা পড়ার পর ম্যানেজার তাকে শাসিয়েছেনও একবার। অনেক সময় গ্রাহক ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে গেলে গ্রাহকের টাকা তার অ্যাকাউন্টে জমা না করেও আত্মসাৎ করেছেন সনি।

বদরুল হাসান সনি বলেন, ব্যাংকের টাকা আমার পক্ষে তুলে নেয়া সম্ভব নয়। টাকা তুলে নিতে চারজনের স্বাক্ষর তথা ভেরিফিকেশন লাগবে। নজরুল ইসলাম আমার সিডি ইনচার্জ। তিনিও আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।

সনি গ্রাহকের টাকা তুলে নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, শুধু নিজেকে সেভ করার জন্য নিজের জমি বিক্রি করে ও আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ধার নিয়ে ব্যাংকের ওইসব টাকা শোধ করছি।

বদলিকৃত ব্যাংক ম্যানেজার আব্দুল হালিমের কাছে এ ব্যাপারে জানতে সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের গাজীপুর জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক শামীম আরা সুলতানা গণি সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীপুর শাখায় গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবে সঞ্চিত টাকার গড়মিলের তথ্য জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে যান এবং অডিট টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শ্রীপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. নজরুল ইসলাম, ক্যাশ অফিসার বদরুল হাসান সনি ও ক্যাশ অফিসার মো. দোলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত ও শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল হালিমকে ঘটনার ব্যাখ্যা তলব করে অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকায় অপসারণ করা হয়েছে। ওই শাখার গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের হিসাবে ব্যালেন্স কনফার্ম করা হচ্ছে। আমরা গ্রাহক এবং এ প্রতিষ্ঠানের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় তার জন্য সকল পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা গ্রাহকের টাকা রিফান্ড করার চেষ্টা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41