শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন

নিরবিচ্ছিন্ন ব্যাংকিং চালু, ব্যাংকাররা কি হঠাৎ করোনাজয়ী হলো?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০
  • ২৪২ বার পঠিত

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যাংকিং কার্যক্রম পূর্বের মত স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছে। সব ব্যাংক কর্মকর্তাকে এখন থেকে কর্মস্থলে গিয়ে অফিস করতে হবে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের পালাক্রম করে ব্যাংকে যাওয়ার নির্দেশনা বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে গত মার্চ থেকে কর্মকর্তাদের পালাক্রম করে অফিসে আসার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

স্বাভাবিক ব্যাংকিং চালুর নির্দেশ দেয়ায় প্রশ্ন উঠেছে দেশে এখন করোনার প্রাদুর্ভাব কি হ্রাস পেয়েছে? দুই তিন মাস আগেও যেখানে প্রতিদিন আক্রান্ত ছিল তিন হাজারের মত, মৃত্যু ৪০-৫০ জন এখনও সে হার অব্যাহত আছে। মহামারির শুরু হওয়ার পর দেশের সকল সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত বন্ধ থাকলেও শুধুমাত্র ব্যাংক খোলা ছিল। ইতোমধ্যে কত হাজার ব্যাংক কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং কয় শত মৃত্যুবরণ করেছেন তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নাই। তবে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম থেকে জানা যায় এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ব্যাংক কর্মী করোনায় মৃত্যু বরণ করেছেন, আক্রান্ত হয়েছে কয়েক হাজার।

সরকার ঈদের সময় দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও ব্যতিক্রম থাকে শুধু ব্যাংক। মনে হয় ব্যাংকারদের কোন পরিবার পরিজন নেই। তাদের প্রতি প্রায়ই অমানবিক আচরণ করা হয়। করোনার সময়ও ব্যাংকগুলো রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। আমাদের দেশে ঈদের ছুটি তিন দিন। আশ্চর্য বিষয় হল ঈদের আগের দিনও ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের নির্দেশে ব্যাংকাররা ক্ষুদ্ধ ও হতাশা প্রকাশ করেন। ঈদের আগের দিন ব্যাংক খোলা পৃথিবীর আর কোন দেশে আছে কিনা জানা নাই। ঈদের আগের দিন অধিকাংশ ব্যাংক শাখাগুলোতে তেমন কোন লেনদেন হয়না। শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ পালন করার জন্য ব্যাংকারদের বাধ্য হয়েই ব্যাংকে বসে থাকতে হয়।

ব্যাংকগুলোতে খুঁজ নিলে জানা যায়, এখনো অধিকাংশ ব্যাংক শাখাতেই একাধিক কর্মী করোনায় আক্রান্ত। কর্মীদের মৃত্যুও থেমে নেই। প্রায়ই করোনায় বিভিন্ন ব্যাংক তাদের প্রিয় সহকর্মীদেরকে হারানোর সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। কোন কোন ব্যাংক শাখায় ১৫/২০ জন পর্যন্ত আক্রান্ত হওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়। অনেক ব্যাংক শাখায় কর্মী সংকটের ফলে অসুস্থ কর্মকর্তাদেরকেও কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বেশির ভাগ ব্যাংকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কর্মীদের বসার মতো আসন বিন্যাসের ব্যবস্থা নেই। গ্রাহকদের জন্যও অতিরিক্ত স্থান সংকুলান করাও সম্ভব হয়না। ফলে ব্যাংক কর্মীদের করোনায় আক্রান্ত হ্রাস পাওয়ার আপাতত কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক কর্মীদের রোস্টারিং, বাসা থেকে অফিস করা বাতিল করে নিরবিচ্ছিন্ন ব্যাংকিং করার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে করোনার প্রাদুর্ভাব এবং কমিউনিটি ট্রান্সমিশন আশংকা বেড়ে যাচ্ছে। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অধিাকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ পরিপালন করা সম্ভব হয় না। সচেতনতার অভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এসব কারণে ব্যাংকারদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ব্যাংক কর্মীরা ব্যাপকহারে আক্রান্ত হলে তার দায় কে নেবে? তাদের পরিবার পরিজনদের মধ্যেও উৎকন্ঠা বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নির্দেশে ব্যাংক কর্মীরা বলছেন তারা কি হঠাৎই করোনাজয়ী হয়ে গেল?

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41