মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৪:০৪ অপরাহ্ন

ভবিষ্যৎ আর্থিক সম্ভাবনা অর্জনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ ফিনটেক সামিট অনুষ্ঠিত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ৭২ বার পঠিত

লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের পরিবেশনায় ও গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পৃষ্ঠপোষকতায় ও নগদ এর সহযোগিতায় ‘‘বাংলাদেশ ফিনটেক সামিট ২০২০” অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্র ও আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুই দিন ব্যাপি এ অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত এই সম্মেলনে সারা দেশ ও দেশের বাইরে থেকে ফাইন্যান্স পেশাদাররা অংশগ্রহণ করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের ফাইন্যান্স পেশাদাররা অংশগ্রহণ করেন।

অধিবেশনটির মূল প্রসঙ্গ ‘শেপিং ফিউচার অব ফাইন্যান্স ফর পিপল’। সম্মেলনটির উদ্দেশ্য হলো ফিনটেক কোম্পানিগুলোর জন্য এমন একটি মঞ্চ তৈরি করা যেখানে তারা তাদের সাফল্য, ব্যর্থতা ও উঠে দাঁড়ানোর গল্পগুলো ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের সাথে শেয়ার করে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে পারে। এছাড়া সংলাপের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ফিনটেক কোম্পানিগুলোর জন্য সঠিক কাঠামো গঠন ও নীতিনির্ধারণ করে বাংলাদেশের ফিনটেক ইন্ডাস্ট্রিকে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ করা যাতে বিশ্বব্যাপী ফিনটেক প্রসারে বাংলাদেশও উপকৃত হয়।

বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের দ্বিতীয় সংস্করণে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফিনটেক বিশেষজ্ঞরা পাঁচটি কি-নোট সেশন, চারটি ইনসাইট সেশন, তিনটি প্যানেল আলোচনা এবং দুটি কেসস্টাডি উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম।

উদ্বোধনী বিবৃতিতে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলাম বলেন, আর্থিক খাত একটি দেশের অর্থনীতির প্রধান অংশ এবং বাংলাদেশ এই উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট উন্নতি করছে। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উন্নয়ন করছে এবং আমরা একটি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করছি।

বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা শরিফুল ইসলাম মহামারি পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেন এবং উল্লেখ করেন কীভাবে ফিনটেক এটি গঠনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ফিনটেক বাংলাদেশের গতি বাড়িয়ে চলেছে। কার্যকর উদ্ভাবনগুলো এগিয়ে আসছে, খুব কার্যকর পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান করছে এবং আমরা আশা করি আগামী কয়েক বছর পরে এই গতি আরও বাড়বে। তবুও বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, আমাদের সময়মতো সমস্যাগুলো সমাধান করা এবং এগিয়ে যাওয়ার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করা দরকার।

প্যানেল অধিবেশনে বক্তারা মহামারিকালীন ও পরবর্তী বাংলাদেশের আর্থিক পরিসেবার পটভূমির বিষয়ে বলেন, সবকিছু ফেলে এগিয়ে যাওয়া সহজ নয়। ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সিস্টেমের গতানুগতিতা এবং অভ্যন্তরীণভাবে গ্রাহক মানসিকতা। গ্রাহকরা আমাদের নতুন প্রযুক্তিতে পরিবর্তনের বিষয়ে কিছু মনে করবেন না, যতটা না রিসোর্সগুলো আমাদের পিছিয়ে রেখেছে। ব্যাংকগুলোর পক্ষে এগিয়ে যাওয়া একটি বেঁচে থাকার প্রশ্ন, কারণ তাদের অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে অপ্রচলতার ঝুঁকিও থাকতে পারে।

তারা বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন তাদের সামগ্রিক ব্যয়-থেকে-আয়ের অনুপাত হ্রাস করে সারাদেশে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর উপায় খুঁজে বের করতে এবং গ্রাহকের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে তুলতে আরও বেশি কার্যকর হতে হবে। ব্যাংকগুলো এখন স্পর্শহীন অর্থ প্রদানের জন্য এগিয়ে আসছে এবং এটি ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে একটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা।

সম্মেলনের কি-নোট বক্তারা ছিলেন- মাস্টারকার্ডের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট, ইনোভেশন এবং কাস্টমার সলিউশনস ভাইস প্রেসিডেন্ট টোবিয়াস পুহেসে, নরওয়ের অ্যাকিনি ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান কার্স্টেন জেলডে, ডিলয়েট ইন্ডিয়ার পার্টনার বিজয় মাণি, সিঙ্গাপুর এইচএসবিসির মার্কেটস এবং সিকিউরিটিজ সার্ভিসেস বিজনেস বিভাগের ডিজিটাল ও ডেটা টিম পরিচালক রাজীব তুম্মালা এবং আইএফসি এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলের ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন্স গ্রুপের সিনিয়র অপারেশন্স অফিসার অনন্যা ওয়াহিদ কাদের।

শীর্ষ সম্মেলনের শীর্ষস্থানীয় প্যানেল সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে রয়েছেন- পিডব্লিউসি বাংলাদেশ ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশিদ, ব্যাংক এশিয়ার সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হোসেন, প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেল আহমেদ; সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাশরুর আরেফিন, এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনারস গ্রুপ চেয়ারম্যান ইফতি ইসলাম, এসবিকে টেক ভেঞ্চারসের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া বশির কবির, মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক, ডিজিটাল ফিন্যান্স ফোরাম বাংলাদেশের (ডিএফএফবি) আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাশেদ, ইউল্যাবের ইএমবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক সাজিদ অমিত, টেলিনর হেলথ সিইও সাজিদ রহমান, এটুআইয়ের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট পলিসি অ্যাডভাইসর আনির চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিইও নাসের এজাজ বিজয়, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম মনিরুল আলম, ডটলাইনস প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল মতিন, ওয়ান ব্যাংকের হেড অব এজেন্ট ব্যাংকিং এবং এমএফএস ডিভিশন ইভিপি গাজী ইয়ার মোহাম্মদ, ডিজিটাল, ইউনাইটেড নেশন্স ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইউএনসিডিএফ) কান্ট্রি লিড মো. আশরাফুল আলম, আইপিডিসি ফিন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড অব মার্কেটিং ও কমিউনিসকেশন রুবায়াত সালেহীন, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের হেড অব ডিজিটাল চ্যানেল ইয়াসিন আরাফাত এবং হাশক্লাউড পিটিওয়াই লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও চিফ টেকনোলজি অ্যাডভাইসার তারিক এ ভুঁইয়া।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের পরিবেশনায় পৃষ্ঠপোষকতা করেছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স। সহযোগিতা করেছে নগদ, কলাবরেশন পার্টনার ইউনাইটেড নেশন্স ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইউএনসিডিএফ)। নলেজ পার্টনার ছিল ইএমবিএ, ইউল্যাব; স্ট্রাটেজিক পার্টনার এটুআই- অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট; বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভ এবং ডিজিটাল ফাইন্যান্স ফোরাম বাংলাদেশ। টেকনোলজি পার্টনার আমরা; পিআর পার্টনার ব্যাকপেজ পিআর। ভিজুয়াল পার্টনার আতোশ এবং ওয়েব সলিউশন পার্টনার এক্সেসেনট্রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41