মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:২৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ ::
সোনালী ব্যাংকের এডি ব্রাঞ্চের সাথে এমডির মতবিনিময় ব্যাংক মালিক ও বাংলাদেশ ব্যাংক লুটপাটকারী ও ঋণ খেলাপিদের সুযোগ করে দিচ্ছে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে কাজ করছে বিএসইসি: শিবলী রুবাইয়াত ব্যাংকিং খাত সংস্কারে স্বাধীন কমিশন গঠনসহ টিআইবির ১০ সুপারিশ অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. শামছুল আলম ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ কোটি ডলারের অবৈধ লেনদেন:ফিনসেনের নথি ফাঁস হিসাব খোলা, আর্থিক লেনদেন সবকিছুর ভরসা মোবাইল ব্যাংকিং পোশাক শিল্প মালিকরা ঋণ শোধে পাঁচ বছর সময় চান সূচকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চার স্তরে মার্জিন ঋণ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিএবির ১৬৪ কোটি টাকা অনুদান

করোনাকালে ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তি উন্নয়ন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৯৫ বার পঠিত

এম. এ. মাসুম

করোনায় দেশের অর্থনীতি বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে ব্যাংকগুলো প্রযুক্তি উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগী হয়েছে। গ্রাহকরা নিরাপদ দুরত্ব থেকেই যাতে লেনদেন করতে পারে সে জন্য ব্যাংকগুলো ডিজিটাল ব্যাংকিং উন্নয়নে মরিয়া হয়ে উঠে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন বাড়ানোর পতি ব্যাপক প্রচেষ্টা শুরু করে। করোনার এই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক গ্রাহকের সুবিধার জন্য চালু করেছে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের নানা সুবিধা। বিমাযুক্ত আমানত পণ্য চালু, সহজে অনলাইনে টাকা ট্রান্সফার, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, অনলাইনে কেনাকাটাসহ বিশেষ কিছু নতুন পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে দেশের কিছু ব্যাংকে।

কয়েকটি ব্যাংক বিভিন্ন দেশীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকদের জন্য ঘরে বসে চলতি মূলধন ঋণের আবেদনের জন্য নতুন অ্যাপস চালু করেছে। এর ফলে পরিবেশকেরা ঋণের প্রয়োজন হলে অ্যাপসে আবেদন করতে পারেন এবং ঋণ অনুমোদন হলে টাকা হিসাবে চলে যায়।

অনলাইন কেনাকাটায় হোম ডেলিভারি নেটওয়ার্ক পেপারফ্লাইয়ে ডিজিটাল মূল্য পরিশোধ ব্যবস্থা ‘ক্যাশলেস পে’ সেবা শুরু করেছে ইস্টার্ণ ব্যাংক। অনলাইন আদেশে ক্রেতাদের দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছানোর সময় নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ করা যাচ্ছে। মাস্টারকার্ডের সহায়তায় এই সেবা নিশ্চিত করছে পেপারফ্লাই। এ জন্য কোনো পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) মেশিনের প্রয়োজন হচ্ছে না। তাছাড়া, ব্যাংকটি চালু করেছে Bangla QR Payment। বাংলাদেশে ইবিএল-ই প্রথম ভিসার সাথে এই প্রজেক্টে যুক্ত হলো। নতুন এই সেবাটি চালু করার ফলে গ্রাহকরা এখন কোনোরকম স্পর্শ ছাড়াই বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্ট, যেমন- হোটেল, রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, ফার্মেসি ইত্যাদিতে পেমেন্ট করতে পারবেন তাদের ইবিএল ভিসা কার্ড ইবিএল স্কাইব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে।

বৈশ্বিক এ মহামারী পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশি-বিদেশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো সিটি ব্যাংকও তাদের প্রোডাক্ট আর সার্ভিসে এনেছে নতুনত্ব আর যোগ করছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। মোবাইলের মাধ্যমেই তাৎক্ষণিক ঋণ পাওয়ার সুযোগ চালু হচ্ছে। মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের গ্রাহকদের ঋণ দেবে সিটি ব্যাংক। বিকাশে লেনদেন প্রতিবেদন ও ব্যবহার ধরন দেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ঠিক করবে গ্রাহক ঋণ পাওয়ার যোগ্য কিনা। ঋণ পাওয়ার যোগ্য হলে তাৎক্ষনিকভাবে সিটি ব্যাংক ওই গ্রাহককে ঋণ দেবে। এই ঋণ পেতে কোনো নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। শুধু বিকাশ অ্যাপে ক্লিক করে ঋণ আবেদন করতে হবে। মুহর্তেই ঋণের টাকা চলে যাবে বিকাশ হিসাবে। গ্রাহকের অবস্থান কোন জেলায় বা ঋণের বন্ধকী আছে কি না, এমন কোনো কিছুরই প্রয়োজন এতে পড়বে না। এভাবেই ডিজিটাল ঋণের যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ।

আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সহজ করতে দেশে প্রথমবারের মতো ব্লকচেইন লেনদেন সম্পন্ন করেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। সম্প্রতি লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) কনটুর ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সফলভাবে ইস্যু করেছে ব্যাংকটি। উল্লেখ্য, ব্লকচেইন হলো একটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি যার মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মাধ্যে লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।

ঘরে বসে লেনদেনের সুযোগ দিতে দুটি উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ব্যাংক। এর মধ্যে দুটি সেবাই বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে নতুন। গত জুনে ব্যাংকটি ঘরে বসে অনলাইনে হিসাব খোলার সুবিধা চালু করে। অনলাইনে হিসাব খুললে ব্যাংকটি বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে বিনা মূল্যে এটিএম কার্ড ও চেক বই।

ইসলামী ব্যাংকে বাংলাদেশে লিমিটেডের CellFin এপের মাধ্যমে ঘরে বসেই একাউন্ট খোলা যাচ্ছে।ইসলামী ব্যাংকের ATM Both ও IBBL iSmartIBBL iSmartএ যুক্ত হয়েছে নতুন সেবা বা সুবিধা। যা ব্যাংকের হিসাবধারীরা কোন কার্ড ছাড়াই উপভোগ করতে পারবেন। এ সেবার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সেবা হল ব্যাংকের অ্যাপ দিয়ে বা কার্ড বিহীন লেনদেন।

হোলসেল ব্যাংকিং গ্রাহকদের জন্য অত্যাধুনিক অমনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রাইমপে চালু করেছে প্রাইম ব্যাংক। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা যেকোনো সময় যেকোনো জায়গা থেকে পেমেন্ট, এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে ফান্ড স্থানান্তর এবং ওয়ার্কফ্লো ও রির্পোট তৈরি করতে পারবেন। প্রাইমপে হলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে হোলসেল ব্যাংকিং গ্রাহকরা যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে নির্ভরযোগ্য ও সুরক্ষিত অ্যাপের মাধ্যমে হাইব্রিড অ্যাপ্রোচে র্স্মাট ডিভাইস থেকে ট্রানজেকশনের একসেস, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোও প্রযুক্তির উন্নয়নে পিছিয়ে নেই। সোনালী ব্যাংক ‘সোনালী ই-সেবা’ নামের নতুন অ্যাপস চালু করেছে। এর ফলে মুঠোফোন অ্যাপসের মাধ্যমে দুই মিনিটে ঘরে বসেই খোলা যাচ্ছে নতুন হিসাব। আর এই অ্যাপস থেকে টাকা স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, সরকারি ভাতা ও ভর্তুকি গ্রহণসহ ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের সব সুবিধা মিলছে। গ্রাহকদেরকে হিসাববিহীন সুবিধাভোগীকে ব্যাংকিং চ্যানেলে সেবা প্রদান করতে চালু করেছে জনতা ব্যাংকের জেবি পিন ক্যাশ সিস্টেম।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে অনেক কর্মীরা বাসা থেকেই ভার্চুয়াল অফিস করেছেন। অন্যদিকে উর্ধতন কর্মকর্তারা ই-ফাইলিং পদ্ধতিতে ফাইল ছাড় করেছেন এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে অধস্তনদেরকে নির্দেশনা দিচ্ছেন।

ব্যাংকে প্রযুক্তি ব্যপক বিস্তার লাভ করলেও মহামারী দীর্ঘায়ীত হলে তা কিভাবে করা যায় এবং ব্যাংকিং সেবা গ্রাহকের দোর গেড়ায় পৌঁছে দেয়া যায় তা নিয়ে প্রযুক্তি বিকাশে রীতিমত যুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছরের চেষ্টায় তথ্যপ্রযুক্তিতে ব্যাংকিং সেবায় যোগ হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম, অনলাইন সিআইবি রিপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড,ভিসা কার্ডের মাধ্যমে ই-বাণিজ্য। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি খাতের সবগুলো ব্যাংকই এখন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের মৌলিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা-যেমন রেমিট্যান্স বিতরণ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, এটিএম ইত্যাদি সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।এত কিছুর পরও মহামারী ব্যাংকিং কার্যক্রমকে গতিহীন করে দেয় এবং ব্যাংকগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড (এমটিবি), আই-এক্সিড টেকনোলজি সল্যুশন, একটি শীর্ষ স্থানীয় বৈশ্বিক ফিনটেক কোম্পানি যারা র্যা পিড ডিজিটাল ব্যাংকিং ট্রান্সফরমেশন নিয়ে কাজ করে, এর সাথে যৌথ প্রয়াসে সম্প্রতি গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এলো ‘এমইজি’ সেবা।

এমইজি একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাইজড সেবা যা গ্রাহকদের দেবে খুব সহজ, উন্নত এবং ঝামেলামুক্ত ডিজিটাল ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা।

করোনা সংক্রমন ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ব্যাংকগুলো বর্তামানে অত্যাধুনিক অটোমেশন বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই করোনা মাহামারীর ফলে অর্থনীতেতে নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সরকারী বেসারকারী ব্যাংকগুলো নিজেদের প্রযুক্তির বিকাশে ব্যাপকভাবে মনোনিবেশ করেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ব্যাবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

লেখকঃ ব্যাংক কর্মকর্তা

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41