মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ ::
সোনালী ব্যাংকের এডি ব্রাঞ্চের সাথে এমডির মতবিনিময় ব্যাংক মালিক ও বাংলাদেশ ব্যাংক লুটপাটকারী ও ঋণ খেলাপিদের সুযোগ করে দিচ্ছে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ নিয়ে কাজ করছে বিএসইসি: শিবলী রুবাইয়াত ব্যাংকিং খাত সংস্কারে স্বাধীন কমিশন গঠনসহ টিআইবির ১০ সুপারিশ অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. শামছুল আলম ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ কোটি ডলারের অবৈধ লেনদেন:ফিনসেনের নথি ফাঁস হিসাব খোলা, আর্থিক লেনদেন সবকিছুর ভরসা মোবাইল ব্যাংকিং পোশাক শিল্প মালিকরা ঋণ শোধে পাঁচ বছর সময় চান সূচকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চার স্তরে মার্জিন ঋণ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিএবির ১৬৪ কোটি টাকা অনুদান

করোনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে বড় ধস, সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০
  • ১৪১ বার পঠিত

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। এটি গত সাত বছরের মধ্যে সবনিম্ন এবং আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৭১ শতাংশ কম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নানা রকম কড়াকড়ি ও মহামারি করোনার কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে।

কয়েক বছর ধরেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ছিল। তবে লাগাম টানতে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে বেশ কিছু শর্ত ও বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমতে থাকে। এরপর মার্চ থেকে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর স্থবির হতে শুরু করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটিতে উৎপাদন ও বিনিয়োগের চাকা ছিল প্রায় বন্ধ। এতে অনেকেরই আয়রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মে পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে নেমে যায়। তবে জুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কিছুটা গতি এসেছে। জুনে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।

২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও বিক্রি কমতে থাকায় পরবর্তী সময়ে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা ধরা হয়।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছর শেষে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। সেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সেই হিসাবে অর্থবছরের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছে ৭১.১০ শতাংশ। এটি গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে নিট ১১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল। এরপর প্রতি অর্থবছরেই সঞ্চয়পত্রে বড় ধরনের বিনিয়োগ আসে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৮ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৩ হাজার ৬৮৮ কোটি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেকর্ড ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৯ হাজার ৯১৩ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রির নিট লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।

জানা গেছে, বর্তমানে পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎস কর ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের সব লেনদেন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। দুর্নীতি কিংবা অপ্রদর্শিত আয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা বন্ধ করতে ক্রেতার তথ্যের একটি ডাটাবেইস সংরক্ষণের লক্ষ্যে অভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রে বড় বিনিয়োগে কঠোর হয়েছে সরকার। চাইলেই ভবিষ্য তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই। এখন প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে কর কমিশনারের প্রত্যয়ন লাগে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক ফার্মের নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগছে উপকর কমিশনারের প্রত্যয়ন। এসব কড়াকড়ির কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41