মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১০:৫৩ অপরাহ্ন

রফতানি আয়ের বিপরীতে উৎসে কর হার কমানো হলো

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৩৯৬ বার পঠিত

রফতানি আয়ের বিপরীতে উৎসে করের হার কমানো হয়েছে। আগে রফতানি আয়ের বিপরীতে ১ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায় হতো। সব ধরনের রপ্তানির উৎসে কর বিদ্যমান এক শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে রপ্তানিকারকরা পূর্বের চেয়ে এক-চতুর্থাংশ হারে কর পরিশোধ করবেন। এ ক্ষেত্রে উৎসে কর কমানো হয়েছে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ।

এনবিআরের আয়কর বিভাগ প্রাথমিকভাবে হিসাব করে দেখেছে, এতে সম্ভাব্য রাজস্ব ছাড় দেওয়া হবে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অর্থাত্ রপ্তানিকারকরা এই পরিমাণ অর্থ কর ছাড় পেতে যাচ্ছেন। মূলত গার্মেন্টস খাতসহ রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এর আগে গত বাজেটে রপ্তানির নগদ প্রণোদনা এক শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এটি জারি করার দিন অর্থাৎ সোমবার থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। এর মেয়াদ থাকবে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ ওই সময়ে যেসব রফতানি আয় ব্যাংকে আসবে তার বিপরীতে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখা হবে।

সূত্র জানায়, আয়কর অধ্যাদেশে রফতানি আয়ের বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশ নির্ধারণ করা আছে। রফতানিকারকদের দাবির মুখে এনবিআর থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সময় সময় এ হার কমানো হয়। গত অর্থবছরেও প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে রফতানি আয়ের বিপরীতে এ কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছিল।

চলতি অর্থবছরের বাজেট পাসের সময় আয়কর আইনে রফতানি আয়ের বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশই রাখা হয়েছে। পরে রফতানিকারকদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আপত্তি করা হলে এনবিআর থেকে এ হার কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। এর আলোকে এনবিআর ওই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

রফতানির মূল্য বিদেশ থেকে গ্রাহকের হিসাবে জমা হওয়ার পর ব্যাংক এর বিপরীতে আরোপিত হারে কর কেটে সরকারি হিসাবে জমা দেয়।

গত কয়েক অর্থবছর থেকেই রপ্তানির উৎসে আয়কর নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এক শতাংশ হলেও তা এসআরওর মাধ্যমে এক বছরের জন্য কমানো হয়। এরপর বাজেটে কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় তা যথারীতি এক শতাংশে চলে যায়। এর পর দেনদরবার শুরু হলে স্বল্প সময়ের জন্য এসআরও জারির বিষয়টি এখন অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা ঢালাও কর ছাড়ের বদলে রপ্তানির স্বচ্ছ হিসাব ও আয়কর আদায়ে শৃঙ্খলা আনার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের আয় হোক বা না হোক সমহারে কর দিতে হচ্ছে। অথচ উচিত হলো—যারা আয় করবে, কেবল তাদের ওপর আয়কর আরোপ করা। সবার আয় নিশ্চয়ই সমান নয়; কিন্তু সমানহারে কর দিতে হচ্ছে। এটি করব্যবস্থার মূল নীতির সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নয়। এছাড়া এভাবে ঢালাও করহার না কমিয়ে মুদ্রার বিনিময় হার বা অন্য কোনো উপায়ে সহযোগিতা করা যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41