ঢাকা বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২, ২০২১
নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সদস্য হিসাবে ৮ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে
  • ব্যাংকবীমাবিডি
  • ২০২১-১০-১৫ ০৭:২৭:২৭

ব্রিকস জোটের উদ্যোগে গঠিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) নতুন সদস্য হিসেবে এরই মধ্যে অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে সদস্যপদ লাভের শর্তানুযায়ী ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৮ হাজার ৬৮ কোটি টাকা (ডলারের সর্বশেষ বিনিময়মূল্য হিসেবে) দিয়ে ব্যাংকটির ৯ হাজার ৪২০টি শেয়ার কিনতে হবে। এর মধ্যে ১৮ কোটি ৮৪ লাখ ডলার পরিশোধিত মূলধন হিসেবে সাত কিস্তিতে ও ৭৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার এনডিবির চাহিদা অনুযায়ী তলবি মূলধন হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। মূলধন পরিশোধে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেতে অর্থ বিভাগের কাছে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। শিগগিরই এ অর্থ ছাড় করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।

উদীয়মান অর্থনীতির চার দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠন করা ব্রিকস জোটের ব্যাংক এনডিবি। গত ২০ আগস্ট ব্রিকস জোটের ওই চারটি দেশের বাইরে এ প্রথম তিনটি দেশকে (বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও উরুগুয়ে) সদস্য হিসেবে অনুমোদন দেয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

গত ২ সেপ্টেম্বর এনডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেয়া হয়। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর ব্রাজিল সরকারের কাছে ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন দাখিল করে ব্যাংকে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এখন থেকে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) অন্য ব্যাংকের মতো এনডিবির কাছ থেকে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ নিতে পারবে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে ব্রিকস জোটের এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার ছয় বছরের মাথায় জোটের বাইরে সদস্য নেয়া হলো।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. জিয়াউল আবেদীন বলেন, বহুজাতিক ব্যাংকগুলো যেসব সুবিধা দেয়, এ ব্যাংকের সদস্য হওয়ায় বাংলাদেশ সেসব সুবিধা পাবে। বাংলাদেশ এ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে থাকবে। ব্যাংকটির যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পূর্ণ ভোট দেয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশের থাকবে। ফলে উন্নয়নের অর্থ পেতে বাংলাদেশের আরেকটি উৎস তৈরি হলো।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, এনডিবিতে ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার চাঁদা দেয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থায় বাংলাদেশ কর্তৃক চাঁদা প্রদানসংক্রান্ত কমিটির কাছে গত ১৬ সেপ্টেম্বর উপস্থাপিত হয়। সেদিনই কমিটি তা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করে। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশকে মোট ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে। যার মধ্যে পরিশোধিত মূলধন হিসেবে সদস্যপদ লাভের ছয় মাস পর থেকে সাত কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে ১৮ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। বাকি ৭৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার তলবি মূলধন হিসেবে বিবেচিত হবে, যা এনডিবির চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে পরিশোধ করতে হবে।

চিঠিতে ১৮ কোটি ৮৪ লাখ ডলার পরিশোধে সাতটি কিস্তির সম্ভাব্য সময় ও প্রতি কিস্তির অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়। সে অনুযায়ী ২০২২ সালের ১৬ মার্চ প্রথম কিস্তি হিসেবে ১ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার পরিশোধ করতে হবে। একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় কিস্তির ২ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার পরিশোধ করতে হবে। তৃতীয় কিস্তির ২ কোটি ৮২ লাখ ৬০ হাজার ডলার ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ পরিশোধ করতে হবে। একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ কিস্তি হিসেবে পরিশোধ করতে হবে ২ কোটি ৮২ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ পঞ্চম কিস্তি হিসেবে ২ কোটি ৮২ লাখ ৬০ হাজার ডলার পরিশোধ করতে হবে। একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠ কিস্তিতে ৩ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার ও সর্বশেষ কিস্তির ৩ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ পরিশোধ করতে হবে।

পরিশোধিত মূলধনের প্রথম কিস্তি পরিশোধে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ১ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার বরাদ্দ ও এ সম্পর্কিত কোড নম্বর বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বাকি ৭৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার তলবি মূলধন এনডিবির চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে পরিশোধ করতে হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এনডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী ৯ হাজার ৪২০টি শেয়ারের বিপরীতে ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার পরিশোধের শর্তে ব্রিকস জোটভুক্ত দেশের বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। ফলে এনডিবির পরিচালনা পর্ষদে বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোটিং ক্ষমতা পেয়েছে। তবে ব্যাংকটির পরিকল্পনা অনুযায়ী সব সদস্যদেশ থেকে মূলধন পাওয়া গেলে তখন বাংলাদেশের ভোটিং ক্ষমতা দাঁড়াবে ১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। ব্যাংকের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটি ভোট দেয়ার জন্য সর্বনিম্ন ১ শতাংশ ভোটিং ক্ষমতা প্রয়োজন।

এনডিবির সদস্য হওয়ার সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যাংকটি মূলত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছে। তেল ও কয়লার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমাদের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উত্পাদনে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সমুদ্রের গ্যাস উত্তোলন ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উত্পাদনে এ ব্যাংকের অর্থায়ন আশা করা যায়। এসব ক্ষেত্রে অর্থায়নের জন্য এতদিন শুধু বিশ্বব্যাংক ও এডিবির দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। কিন্তু এ ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটা নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো।

প্রকল্পে সরাসরি অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এনডিবির অফিস স্থাপনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে তারা সরাসরি অর্থায়নের পরিবর্তে বিশ্বব্যাংক বা অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে অর্থায়ন করবে, যা আমাদের জন্য খুব বেশি সুফলদায়ক হবে না। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে থাকার জন্য ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার মূলধন জোগান দিতে হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগ।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাতে মুনাফা ১ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস
মৃত ব্যক্তির হিসাব থেকে ফি কাটায় বিশ্ব বিখ্যাত ব্যাংকের জরিমানা
আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান নিয়োগ পদ্ধতি
সর্বশেষ সংবাদ