ঢাকা বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২, ২০২১
প্রশ্নফাঁসে সরকারি ৫ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল
  • ব্যাংকবীমাবিডি
  • ২০২১-১১-১২ ০৮:৩৯:৫৮

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠায় সরকারি পাঁচটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ সম্পর্কিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির আওতায় পাঁচ ব্যাংকের (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক) ২০১৮ সালের অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগের ১৫১১টি শূন্য পদের সরকারি নিয়োগের জন্য ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত বাতিল করা হলো। ওইদিন বেলা ৩টা-৪টা পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে এমসিকিউ পদ্ধতিতে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে পরীক্ষাটি শেষ হওয়ার আগেই প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ চাকরিপ্রার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির টেন্ডারে কাজ পেয়ে প্রশ্নপত্রটি তৈরি ও পরীক্ষা সম্পাদনের দায়িত্বে ছিল আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। অনেক আগে থেকেই বেসরকারি এ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা সম্পাদনের দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

এদিকে আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আপাতত আর কোনো নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য ১৩ ও ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় তিন ব্যাংকের দুই পদের লিখিত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এ দুটি পরীক্ষা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি কাজ পেয়েছিল। তবে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (জেনারেল) ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অফিসার (জেনারেল) পদে নিয়োগ পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ভবিষ্যতের সব নিয়োগ পরীক্ষা থেকে বাদ দিতে কালো তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে কেন কালো তালিকাভুক্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা তলব করে বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। গতকাল সে চিঠির জবাব দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। যদিও চিঠিতে প্রশ্ন ফাঁসের জন্য আহ্ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যেসব কারণ দেখিয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সহসা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীন অনুষ্ঠিত যেকোনো নিয়োগ পরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। আহ্ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে নিজেদের তিন কর্মীকে বহিষ্কার করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির গণমাধ্যামকে বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পাওয়ায় ৬ নভেম্বরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থগিত করা হয়েছে ১৩ ও ২০ নভেম্বরের পরীক্ষা দুটি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায় প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষা শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় যেসব যুক্তি দেখিয়েছে তা অগ্রহণযোগ্য। এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। আমরাও আইন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

গত বুধবার বিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হবে ৫ নভেম্বর রাতে এমন তথ্য আসে ডিবির কাছে। ডিবির টিমের সদস্যরা ছদ্মবেশে পরীক্ষার্থী সেজে ৬ নভেম্বর সকাল ৭টার দিকে প্রশ্নপত্রসহ উত্তর পাওয়ার জন্য চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অগ্রিম টাকা পরিশোধের পর প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁস চক্রের অন্যতম হোতা রাইসুল ইসলাম স্বপন ডিবির ছদ্মবেশী পরীক্ষার্থীকে নিয়ে যান। এরপর পরীক্ষার উত্তরপত্রসহ স্বপনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

ট্রাস্ট ব্যাংকে এমটিও পদে চাকরির সুযোগ
ব্যাংকের চাকরিপ্রার্থীদের বয়সেও ২১ মাস ছাড়
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষাতেও জালিয়াতি
সর্বশেষ সংবাদ