ঢাকা রবিবার, এপ্রিল ১১, ২০২১
আবারো লকডাউনঃ আতঙ্কিত শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ
  • ব্যাংকবীমাবিডি
  • ২০২১-০৪-০৪ ০৮:১৩:১২

সারা দেশে দ্বিতীয় দফায় আবারো লকডাউনের ঘোষণায় আতঙ্কে রয়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। করোনার বর্তমান এই নাজুক পরিস্থিতির কারণে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশব্যাপী লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। যদিও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা করোনার প্রকোপ থেকে জনগণকে রক্ষা করতেই এই লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরেও জীবন জীবিকা আর পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভেবেই আতঙ্কিত হচ্ছেন অনেকে। শ্রমজীবী মানুষদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদের এই লকডাউন ভীতির কথা।

নিকট অতীতে লকডাউনের প্রভাবে দেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। অনেকে হারিয়েছেন চাকরি। আবার দৈনিকভিত্তিক যারা কাজ করে অর্থ উপার্জন করতেন তাদেরকেও আর্থিক দৈনতায় পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে প্রকটভাবে। আর্থিক অনটনের সেই রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দফায় আবারো লকডাউনের ঘোষণা আসায় এখন বিপাকে পড়তে হবে সেই শ্রমজীবী মানুষদের।

এ দিকে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আগামীকাল সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। গতকাল শনিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। তিনি বলেন, সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করছে সরকার।

একই বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, করোনা সংক্রমণ রোধ করতে সরকার এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের চিন্তা করছে। তবে এক সপ্তাহ পরে এই লকডাউন আরো বাড়বে কি না সেই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতির বিবেচনায় তখন আবার নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অবশ্য এর আগে থেকেই দেশে করোনার সংক্রমণ আবারো বাড়তে থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো না খুলতে এবং কোনো পাবলিক পরীক্ষা না নিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গেল মার্চের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণ লকডাউন দেয়ার প্রস্তাবও রাখেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছর দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই সারা দেশে সতর্কতা জারি করে সরকার। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়।

ব্যাপক সংখ্যায় প্রবাসীদের আসার কারণে ১৯ মার্চ দেশের প্রথম এলাকা হিসেবে শিবচরকে লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। এরপর পর্যায়ক্রমে সারা দেশকেই লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছিল। দেশে ওই সময়ে লকডাউনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমেই স্থবিরতার প্রভাব পড়েছিল চাকরির বাজারে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশেও বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ কর্মচ্যুত হয়েছেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাবে, করোনার কারণে এবং সারা দেশে এভাবে দফায় দফায় লকডাউনের কারণে বাংলাদেশে চাকরি হারানোর তালিকায় যুক্ত হতে পারেন অন্তত দেড় কোটি মানুষ।

এ প্রসঙ্গে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, করোনার কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত দেড় কোটি মানুষ কর্মচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। এটা বাংলাদেশের জন্য খুবই খারাপ খবর। সংখ্যার হিসেবে দেড় কোটি মানুষ চাকরি হারালেও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে অন্তত পাঁচ কোটি মানুষ ।

সূত্র মতে, দেশে বর্তমানে ছয় কোটি ৪০ লাখের মতো শ্রমিক কাজ করে। এর মধ্যে দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষ কাজ করে কৃষি খাতে। বাকি প্রায় চার কোটি শ্রমিক কাজ করছে শিল্প ও সেবা খাতে। এর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক খাতেই অধিকাংশ শ্রমিক কাজ করে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, দেশে তিন কোটি ৪০ লাখ গরিব মানুষ আছে। তাদের মধ্যে পৌনে দুই কোটি মানুষ হতদরিদ্র। দ্বিতীয় দফায় লকডাউনের কারণে এই হতদরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ আবারো আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবারো লকডাউনঃ আতঙ্কিত শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ
২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৬ শতাংশঃ বিশ্ব ব্যাংক
ব্যক্তি করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব