অফশোর ব্যাংকিং

এম. এ. মাসুম || ২০২১-০১-১৯ ২৩:০০:০২

image

অফশোর ব্যাংকিং হলো ব্যাংকের অভ্যন্তরে পৃথক এক ব্যাংকিং ব্যবস্থা। বিদেশি কোম্পানিকে ঋণ প্রদান এবং বিদেশি উৎস থেকে আমানত সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে অফশোর ব্যাংকিংয়ে। এতে স্থানীয় মুদ্রার পরিবর্তে বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব হয়। ব্যাংকের কোনো নিয়ম-নীতিমালা অফশোর ব্যাংকিংয়ে প্রয়োগ হয় না। কেবল মুনাফা ও লোকসানের হিসাব যোগ হয় ব্যাংকের মূল হিসাবে।

এক নজরে বাংলাদেশে অফশোর ব্যাংকিং:

  • ১৯৮৫ সালে এবিষয়ে একটি নীতিমালা জারি করা হলেও সেটি সম্পূর্ণ ছিল না।
  • ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ (বিআরপিডি-০২) বাংলাদেশ ব্যাংক একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করে।
  • নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ইপিজেড, পিইপিজেড, ইজেড ও হাইটেক পার্কে অবস্থিত শতভাগ বিদেশি মালিকানার যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত নিতে পারবে।
  • এসব প্রতিষ্ঠানের এলসি খোলা, বিল ডিসকাউন্টিংসহ বৈদেশিক বাণিজ্য সেবা দিতে পারবে।
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে এসব অঞ্চলের বাইরে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও এ ধরণের লেনদেন করা যাবে।
  • প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঋণ দিতে না পারলেও তাদের থেকে আমানত নেওয়া যাবে। বাংলাদেশি মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত নেওয়া যাবে না।
  • দেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের আমদানি ঋণপত্রের বিপরীতে বিল ডিসকাউন্টিং ও বিদেশি পণ্য সরবরাহকারীর পরিশোধের ব্যবস্থা করা যাবে।
  • ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে ঋণের অন্তত ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশেই বিনিয়োগ থাকতে হবে।
  • বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের এ ইউনিট দেশীয় উৎস থেকে যে আমানত নেবে, সেটির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মূলধনের ২০ শতাংশের বেশি হবে না।
  • এ ইউনিটের তহবিল সাধারণ শাখায় নেওয়া যাবে না। দেশের বাইরে সাধারণ শাখার ‘নস্ট্রো’ অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না।
  • এমন কোনো ঋণ বিতরণ বা আমানত নেওয়া যাবে না, যা চাহিবামাত্র গ্রাহককে পরিশোধ করতে হয়।
  • ব্যাসেল নীতিমালার আলোকে ব্যাংকের মূলধন হিসাবের ক্ষেত্রে এখন থেকে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটকেও বিবেচনায় নিতে হবে।
  • ব্যাংকের সিআরআর ও এসএলআর সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এ ইউনিটের ঋণ আমানত বিবেচনায় নিতে হবে। সাধারণ ব্যাংকিংয়ের সব ধরনের বিধিনিষেধ অফশোর ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
  • যে কোনো তফসিলি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনা করতে পারবে। তবে এ জন্য প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা করতে হবে, যা পরিচালনা পর্ষদ থেকে অনুমোদিত হতে হবে।
  • অফশোর ব্যাংকিং ব্যবসার হিসাব আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তবে ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতের ক্ষেত্রে লেনদেনে সব সার্বিক হিসাব টাকায় স্থানান্তর করে আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ করতে হবে।
  • প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো মোট আমানতের ৮৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো ৮৯ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারবে না।
  • অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট বিদেশি উৎস এবং ইপিজেড, পিইপিজেড, ইজেড ও হাইটেক পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসীদের বাইরে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।

তহবিলের উৎস (Source of Fund):

১।   মাদার ব্যাংক থেকে স্থানান্তর (Placement from Mother bank/Parent company)

২।   বিদেশী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ (Borrowing from Foreign Banks/FI)

৩।   দেশীয় অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে ঋণ (Borrowing from OBU of Local Banks)

৪।   বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব (FC Deposit)

৫।   অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মুনাফা (Retained Earnings of OBU)

অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের গ্রাহকঃ

  • ইউনিট ইপিজেড, পিইপিজেড, ইজেড ও হাইটেক পার্কে অবস্থিত শতভাগ বিদেশি মালিকানার যে কোনো প্রতিষ্ঠান
  • নন রেসিডেন্ট-ব্যক্তিগত/প্রাতিষ্ঠানিক/শিল্প প্রতিষ্ঠান (Non-resident -Individual /Institution/ Industry)
  • এডি শাখার UPAS সুবিধার আওতায় আমদানি রপ্তানি বিল ডিসকাউন্টিং (AD Branch under UPAS facilities-import / export bill discounting)
  • বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী (Bangladeshi National working abroad -Non-resident)

সুবিধাঃ

  • গ্রাহকদেরকে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়ন
  • মাদার কোম্পানির বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগে ব্যবহার
  • স্বল্প খরচে (cost bearing fund) তহবিল সরবরাহ
  • ইপিজেড, পিইপিজেড, ইজেড ও হাইটেক পার্ক থেকে তহবিল সরবারাহ ও অর্থায়ন
  • নন রেসিডেন্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তহবিল সরবরাহ ও অর্থায়ন
  • বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক
  • বিদেশেী ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা নেয়া সম্ভব
  • দেশের অভ্যন্তরে অন্যান্য অফশর ব্যাংক ইউনিট থেকে আমানত সংগ্রহের মাধ্যমে তারল্য সংকট দুর করা যায়।
  • বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের ফলে কোন প্রকার এক্সচেঞ্জ খরচ নাই।

 

লেখকঃ ব্যাংক কর্মকর্তা

র্ইমেইলঃ ma_masum@yahoo.com

অফিস : দক্ষিণ বনস্রী, ঢাকা। ই-মেইলঃ bankbimabd@gmail.com, editor.bankbimabd@gmail.com

ফোন: +৮৮০১৭১৮৬২১৫৯১