ঢাকা বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২১
অর্ধেক সময়েই সঞ্চয়পত্র বিক্রি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল
  • ব্যাংকবীমাবিডি
  • ২০২১-০২-০৩ ০৮:২১:১৯

ব্যাংক আমানতের সুদহার কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ৬ মাস বাকি থাকতেই সঞ্চয়পত্রে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ পেয়েছে সরকার। জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ২০ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা এসেছে। পুরো অর্থবছরে এ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত আছে ২০ হাজার কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র কেনায় নানা কড়াকড়ির পরও বেশি সুদ পাওয়ার আশায় বিনিয়োগকারীরা এদিকেই ঝুঁকছেন।

২০১৯ সালের মাঝামাঝি সঞ্চয়পত্র কেনার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে সরকার। ফলে টাকা থাকলেই যে কেউ এখন আর সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন না। আগে চার ধরনের সঞ্চয়পত্রে যেখানে আলাদা সীমা অনুযায়ী কেনার সুযোগ ছিল। এখন চার ধরনের মিলিয়ে একজন ব্যক্তি একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ এবং যৌথ নামে এক কোটি টাকা কিনতে পারেন। এর ফলে বিনিয়োগ সীমা কমেছে। বর্তমানে ব্যাংক, ডাকঘর, সঞ্চয় ব্যুরোসহ সব অফিস থেকে অভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে। আবার এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য টিআইএন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ নির্দেশনার শুরুর দিকে অনেকের টিআইএন না থাকা বা এ নিয়ে এক ধরনের ভীতির কারণে বিক্রি কমতি ছিল। এখন অনেকে নির্দেশনার আলোকে প্রস্তুতি নিয়েছেন। আর এর সঙ্গে ব্যাংকে সুদহার কমে যাওয়ায় গত কয়েক মাস ধরে বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী বলেন, অধিকাংশ ব্যাংকের কাছে উদ্বৃত্ত তারল্য থাকায় আমানতের সুদহার ব্যাপক কমেছে। সঞ্চয়পত্রের সুদহার অপরিবর্তিত থাকায় আমানতের সুদহারের সঙ্গে এর অনেক পার্থক্য তৈরি হয়েছে। যে কারণে সঞ্চয়পত্র কেনার ওপর সীমা আরোপসহ নানা কড়াকড়ির পরও বিক্রি বাড়ছে। আপাতত এতে ব্যাংক খাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ অবস্থা থাকলে ব্যাংক আমানতের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকগুলো গড়ে ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ সুদে আমানত নিয়েছে। মেয়াদি আমানতেও কোনো ব্যাংক এখন আর ৬ শতাংশের বেশি সুদ দিচ্ছে না। অথচ সঞ্চয়পত্রে আগের মতোই সুদহার রয়েছে ১১ শতাংশের বেশি। বিদ্যমান চার ধরনের সঞ্চয়পত্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুদ রয়েছে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে। পাঁচ বছরের জন্য পেনশনার সঞ্চয়পত্রে টাকা রেখে এখন সুদ মিলছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং তিন বছর মেয়াদি তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সুদহার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট যে পরিমাণ অর্থ এসেছে তার অর্ধেকের বেশি পরিবার সঞ্চয়পত্র থেকে। পরিবার সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র থেকে দুই হাজার ৫০৮ কোটি, বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে এক হাজার ৯৩২ কোটি ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ এক হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। এছাড়া ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের মাধ্যমে দুই হাজার ৯৩৫ কোটি এবং বিভিন্ন সঞ্চয় বন্ড থেকে ৮৪২ কোটি টাকা এসেছে। মোট বিক্রি থেকে আগে কেনা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তিতে পরিশোধ বাদ দিয়ে নিট বিক্রির হিসাব করা হয়।

চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়তির দিকে থাকলেও গত অর্থবছরে কমে যায়। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট পাঁচ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকার ঋণ পায়। আর একক মাস হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বরে ৪০৮ কোটি টাকা কমে যায়। গত ডিসেম্বরে যেখানে নিট এক হাজার ৪৪২ কোটি টাকা এসেছে। ব্যাপক কড়াকড়ির কারণে গত অর্থবছর সব মিলিয়ে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছিল সরকার। মূল বাজেটে যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা। যে কারণে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে রেকর্ড ৭২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ঋণ নেয় সরকার। সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেয়। অভ্যন্তরীণ উৎসের ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রই প্রধান দুটি ক্ষেত্র।

পেপারলেস ক্রস-বর্ডার বাণিজ্য কার্যকর হল
‘কৃষি আধুনিকায়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে কাজ করছে সরকার’
টানা পাঁচবারের মতো সর্বোচ্চ করদাতার পুরস্কার পেল গ্রামীণফোন