ঢাকা বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২১, ২০২১
ঋণের সুদ আরো ৬ মাস স্থগিতের বিজিএমইএ দাবিতে সাড়া নেই
  • ব্যাংকবীমাবিডি
  • ২০২১-০১-১৩ ০৭:২৬:৩০

প্রণোদনা প্যাকেজে ঋণের সুদ আরো ছয় মাস স্থগিতের জন্য বিজিএমইএর দাবির বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। একই সাথে প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ আরো এক বছর বৃদ্ধি করার বিষয়েও সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে ঋণের সুদ ও কিস্তি আগের নিয়মে পরিশোধ করতে হবে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, করোনাকালে প্রণোদনা তহবিল থেকে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনের জন্য দেয়া ঋণের মাসিক কিস্তি পরিশোধে বাণিজ্যিক ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সে কারণে ব্যাংকগুলো ঋণের প্রথম কিস্তির অর্থ জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিয়েছে। প্রক্রিয়াটি পেছাতেই গত বৃহস্পতিবার এক খোলা চিঠিতে তৈরী পোশাক উৎপাদন ও রফতানিকারক সমিতি-বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট রুবানা হক সুদ স্থগিতের কথা উল্লেখ করেছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিজিএমইএর পক্ষ থেকে দুই মাস আগে এ বিষয়ে আমাদের চিঠি দেয়া হয়েছিল। আমরা বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের কিছু বলা হয়নি। ও দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সুদ স্থগিত বা ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো করণীয় আছে বলে আমাদের মনে হয় না। এ বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্তও নিতে পারি না।

তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বর মাসে তৈরী পোশাক খাতে রফতানি আয় কিছুটা হোঁচট খেলেও আগামী ক’মাসে এ খাত ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে উন্নত বিশ্বে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগের ফলে এসব দেশের বাজার আগামীতে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেয়া দিচ্ছে। এতে আমাদের রফতানি আয় বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে বিজিএমইএ সভাপতির পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক খোলা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শিল্প আজ সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিস্থিতির দিকে মোড় নিয়েছে।

যথাযথ পুনর্গঠনের সুযোগ এমনকি প্রস্থান নীতি না থাকায় পশ্চিমা ক্রেতাদের দেউলিয়াত্ব বরণ, নির্দয়ভাবে ক্রয়াদেশ বাতিল এবং ‘ফোর্স মেজিওর ক্লস’এর কারণে শিল্প চরমভাবে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে, কারখানাগুলো টালমাটাল পরিস্থিতির সাথে প্রাণান্তকর সংগ্রাম করে কোনোভাবে টিকে রয়েছে। শিল্প ভালো করছে এবং সরকারের কাছ থেকে সব সহযোগিতা পাচ্ছে, এই যে একটি ধারণা অনেকেই পোষণ করছেন, তার আজ প্রকৃত পুনর্মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ২০২১ সালের জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আপাতত হচ্ছে না বাণিজ্য মেলা
প্রণোদনার ঋণ পরিশোধের মেয়াদ  তিন বছর চায় বিজিএমইএ
চাল আমদানি বন্ধঃ এইচএস কোড জটিলতা