ঢাকা শনিবার, মে ১৫, ২০২১
একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকারের অবসরজনীত বিদায়ী ভাষণ
  • মোঃ জামশেদ আহমেদ
  • ২০২১-০৪-১৪ ১৭:১০:২৫

সারাদিন কাজ করে সকলে পরিশ্রান্ত! ব্যাংকের সকলেরই  বিশাল স্মৃতি আছে। তাই শুনতে হয়তোবা আপনাদের ভালো না লাগতে পারে,তারপরও বলছি- কারন কথাগুলো বলার জন্য এটা আখেরী প্লাফর্ম- দয়া করে শুনুন! ১২.০২.১৯৮৫ তে আঞ্চলিক কার্যালয় চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড়ে  যোগদান। ১২.০১.২০২০ এ আঞ্চলিক নিরীক্ষা কার্যালয় ষোলশহরে  চাকুরীর সমাপ্তি। চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় থেকে ষোলশহর দীর্ঘ ৩৫ বছর। ১৩.০১.২০২০ তারিখে ৫৯ বছর পূর্ণ করে অবসরোত্তর ছুটি এবং ১৩.০১.২০২১ তারিখে অবসরে গমন । অর্থাৎ ৩৬ বছরে পদার্পণ চলছে।  চাকুরী করেছি ১৮ টি শাখায়,২ টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে,১ টি আঞ্চলিক নিরীক্ষা  কার্যালয় ও ০১ টি বিভাগীয় নিরীক্ষা কার্যালয়ে । চট্টগ্রাম বিভাগেই চাকুরী। শহর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের শাখায়  চাকুরী। তিন পার্বত্য জেলায় চাকুরী। বিভাগীয় কার্যালয়, প্রধান কার্যালয় ও দীপাঞ্চলের শাখাগুলোতে চাকুরীর অভিজ্ঞতা নেই। ব্যবস্থাপক ১০ বছর, দ্বিতীয কর্মকর্তা ১১ বছর, আঞ্চলিক কার্যালয়ে ০২ বছর, বিভাগীয় নিরীক্ষা কার্যালয়ে এজিএম ০৬ মাস, আঞ্চলিক নিরীক্ষা কর্মকর্তা ০৬ মাস, টি বোর্ড শাখায় কমপিউটার এর দায়িত্বে দীর্ঘ ০৮ বছর, কর্মকর্তা হিসেবে ০৩ বছর সহ ৩৫ বছরের চাকুরী। কর্মকর্তা পদে  চাকুরীর শুরু, এজিএম হিসেবে অবসরে গমন। কর্মে সততা বজায় রেখে যথাযথ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। অপ্রাপ্তি বলতে আমি ডিজিএম হতে পারিনি।

চাকুরীর উল্লেখযোগ্য দিক হলো : পরিবর্তনকে গ্রহণ করা।

বিকেবিতে কমপিউটার ONE STOP চালু হওয়ার পর  উদ্বোধনী দিন হতে টি বোর্ড শাখায় দুই  মেয়াদে  (মাঝখানে ০৪ মাস বাদ দিয়ে) দীর্ঘ ০৮ বছর চাকুরী। ব্যাংকে  কমপিউটারাইজেশনের  হিস্ট্রির সাথে জড়িত আছি।    টি  বোর্ড শাখায় ২ বছর এককভাবে কমপিউটারের দায়ত্ব পালন। ONE STOP SERVICE-ONE MAN SERVICE হয়ে যায়। কোন ছুটি নিতে পারি নাই। এতটাই Essensial ছিলাম যে, বদলী চাইলেও হতে পারি নাই। প্রিয়জনের জানাযাও পড়তে পারি নাই।

পটিয়া অঞ্চলে কমপিউটার, ফরেন রেমিট্যান্স, অটোমেশন এর প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ডিজিটাল কৃষি ব্যাংক এর অগ্রযাত্রায় উদ্বুদ্ধ করেছি। কলেজ বাজার শাখা অঞ্চলের সেরা Trans Fast Remittance  অর্জনকারী হিসেবে  মোবাইল সেট পুরস্কৃত হয়েছি। আলমশাহপাড়া মাদ্রাসা ও কলেজবাজার শাখায়  XPRESS MONEY MARKETING  CAMPAIGN -2016-২০১৬ সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। আলমশাহপাড়া শাখাকে বিভাগের সেরা Remittance অর্জনকারী হিসেবে  উন্নীতকরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। Foreign Remittance- Top Priority নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত   XPRESS MONEY REMITTANCE  ট্রেনিং এ Motivational Speech  প্রদান করেছি।প্রবাসী অধ্যুসিত চট্টগ্রাম। এখানে Remittance  অর্জনের সুযোগ বেশী। এমনিতর অভিপ্রায়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। Remittance  সংক্রান্ত  পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ব্যবস্থা নিয়েছি। Beneficiary এর  ছবি তুলে উদ্বুদ্ধকরনের চেষ্টা করেছি। স্থানীয়ভাবে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করে প্রচারনার ব্যবস্থা নিয়েছি। অনেকক্ষেত্রে  বাধার সম্মুখীন হয়েছি। 

আমি  ভাবি, স্বপ্ন দেখি।  ছাত্র জীবন থেকে লিখি। ব্যাংকার একটি মাসিক পত্রিকা বেরোতো।  সম্ভবত ১৯৯২ সনে ব্যাংকার এ  প্রিয় পেশা ব্যাংকিং  কলামে আমি লিখেছি - ডিপিএস এর বিপরীতে ঋণ চালু করা উচিত। পরবর্তীতে একসময় দেখি, ডিপিএস এর ঋণ চালু হয়ে গিয়েছে। পার্বত্য ভ’মিতে ব্যাংকিং : দুর্গম জনপদে নির্ভীক যাত্রা”  শীর্ষক লিখেছি। আমি জন্মদিন”, মৃত্যুর দিন” নিয়ে লিখেছি। বাংলাদেশে ইংরেজি শিক্ষা  ও চর্চা  নিয়ে লিখেছি-- যেখানে উপসংহারে  শেষ কথা : তোমরা ইংরেজি শিখো তবে ইংরেজ হয়ো না। বাংলাদেশে আরবী  শিক্ষা  ও চর্চা”  শিরোনামে  লিখেছি।

ব্যক্তিজীবনে আমরা সাত  ভাই ও চার বোন।আব্বা মৃত্যুবরন করেছেন। তবে  আম্মা এখনো আছেন।   আমার সহধর্মিনী নাসরীন রুবাব এম.এ. বি- এড.  সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালযের প্রধান শিক্ষিকা। এক মেয়ে ও এক ছেলে আরশী ও আয়াজ। বড় মেয়ে তাসমীম রুবাইয়াত আরশী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে  অথনীতিতে সদ্য মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে। সে অনার্স ও মাস্টার্স দুটেতেই প্রথম শ্রেণী পেয়েছে।  ছেলে আহমেদ তাজওয়ার আয়াজ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে  ৩য় বর্ষে এম.বি.বি.এস. পড়ছে।   

যেহেতু অবসরে যাচ্ছি- তাই অবসর গ্রহণকারীদের জন্য কিছু চাহিদা মাননীয় জিএম ও সিআরএম মহোদয়ের কাছে উপস্থাপন করছি।

  • যাদের  বিদায় সম্বর্ধনা দিবেন, তাদের চাকুরী বৃত্তান্ত যাতে উপস্থান করা হয়। একটি কমন ফরমেট করা যেতে পারে।
  •  বিদায় সম্বর্ধনা যাতে সঠিক সময়ে করা হয়।
  • অবসর গ্রহণকারীদের  জন্য প্রতি বছর কর্মরতদের  ন্যায় ব্যাংকের ক্যালেন্ডার প্রদানের ব্যবস্থাকরন।
  • অবসর গ্রহণকারীদের  আমৃত্যু মেডিকেল ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে কিন্তু মৃত্যুর পর দাফন-কাফনের খরচ প্রদানের ব্যবস্থা নেই। কর্মরতদের ন্যায়  অবসর গ্রহণকারীদের  জন্য দাফন-কাফনের খরচ প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হলে উত্তম মানবিক কাজ হবে।
  • শাখায় অবসরভাতা ভোগি মৃত্যুবরনকারী দের খবর তাৎক্ষনিকভাবে উর্ধ্বতন কার্যালয়ে জানাবেন এবং তাদের জানাযায়/ শেষকৃত্যো অংশগ্রহন করবেন।
  • বিদায় সম্বর্ধনায়  পরিবারের সদস্যদের  উপস্থিতির ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

 লেখকঃ সহকারী মহাব্যবস্থাপক ( পি.আর.এল. ভোগরত), বাংলাদেশ কৃষি  ব্যাংক।

ইমেইলঃ jamshedbkb@gmail. Com

এ সময়ে গ্রাহকের পাশে থাকা ঈদের বড় আনন্দ
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবং ব্যাংক খাতে চ্যালেঞ্জ
নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি ব্যাংকারদের আরও কিছু দাবি