ঢাকা রবিবার, এপ্রিল ১১, ২০২১
ব্যাংকগুলোয় লুটেরা শ্রেণী তৈরি হয়েছে
  • ব্যাংকবীমাবিডি
  • ২০২১-০৩-১৫ ০৭:২৫:২৭

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, গার্মেন্ট মালিকরা বেশি বেশি গ্রোথ দেখাচ্ছে। এর প্রধান কারণ নারী শ্রমিকের শ্রম চুরি। এ সব মালিকরা টাকা বিদেশে পাচার করছে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো শুধু মুনাফাই দেখে। এখানে লুটেরা শ্রেণী তৈরি হয়েছে। এসএমইতে ঋণ দিতে অনেক কেবল আনুষ্ঠানিকতা। আর ব্যাংকের পরিচালকরা টাকা ভাগাভাগি করে নিয়ে যায়। আর শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, এসএমই ও নারী উদ্যোক্তারা ঋণের জন্য লেফট-রাইট করতে হয়। আর যারা ব্রিফকেস নিয়ে যায়, তাদের ঋণ হয়।

এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে গতকাল আগারগাঁওয়ে ‘মুজিববর্ষে নারী-উদ্যোক্তাদের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এবং বিশেষ অতিথি প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও শিল্প সচিব কে এম আলী আজম।

এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক ফারজানা খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মফিজুর রহমান। নির্ধারিত বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার সভাপতি মিসেস মনোয়ারা হাকিম আলী এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস আফরোজা খান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ।

লুটেরা শ্রেণীকে ইঙ্গিত করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, চুরির টাকা বিদেশে না নিয়ে দেশে খাটায়। এরা দেশপ্রেমিক চোর। গার্মেন্ট শিল্প মালিকদেরও সমালোচনা করেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিকদের শ্রম চুরি করে তারা বড়লোক হয়েছে। আবার বিদেশে অর্থপাচার করে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) থেকে বের হয়ে বড় বড় সুবিধা পাব। এগুলো কাজে লাগাতে হবে। বড় বড় ব্যবসার দরকার নেই। আপনারা ছোট পরিসরে উদ্যোক্তা হন। যারা কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করবে, আমি তাদের পাশে আছি, থাকব। আপনারা সবাই নারীদের যোগ্য মর্যাদা দেবেন। হোটেলের রিসেপশনে সুন্দরী নারীদের নিয়োগ দেয়াটা প্রকৃত মর্যাদা নয়। সব নারীকে সবক্ষেত্রে সমান সুযোগ-সুবিধা দেবেন। তাহলে আমাদের দেশ আরো সামনে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমি বড় বড় ব্যবসা বুঝি না। আমি রাস্তার মানুষ, রাস্তার মানুষের সাথেই আমার চলাফেরা। আমার মন্ত্রণালয়ও মতিঝিলের ঘিঞ্জি এলাকায় রাস্তার পাশে। আমাকে সবাই কাছে পান, কারণ আমি রাস্তার মানুষের সাথে থাকি।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখেন, ব্যাংকের মালিক কারা। ভালো লোক একজনও ব্যাংকে আসেনি। নারী উদ্যোক্তারা যাতে ব্যাংকে ঋণ নিতে গিয়ে লেফট-রাইট না করতে হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, প্রণোদনার ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোর কেন অনিহা, তা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে ডিজিটালাইজেশনের কোনো প্রভাব দেখা যায় না। ফাইল আটকে রাখে, গায়েব করে দেয়। একটা ফাইল দুই তিন মাসও আটকে রাখে। অথচ এসব ফাইল আধ ঘণ্টায় ছাড় করা সম্ভব।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নারী উদ্যোক্তারা প্রণোদনার ঋণ পেতে তাদের হয়রানির কথা তুলে ধরেন। ঊর্মি নামে একজন নারী উদ্যোক্তা বলেন, তার ব্যাংক প্রণোদনার ঋণ অনুমোদন হয়েছে বলে ব্যাংকে চেক পাঠাতে বলে। ব্যাংকে ঋণের টাকা আনতে চেক পাঠানোর পর ব্যাংক ওই টাকা চেকের মাধ্যমে তুলে আগের ঋণ সমন্বয় করেছে। অর্থাৎ প্রণোদনার টাকা দিয়ে আগের ঋণের অর্থ ব্যাংকের শাখা নিজেরাই কেটে নিয়েছে। অন্য উদ্যোক্তারাও প্রণোদনার অর্থ না পাওয়ার কথা জানান।

মূল প্রবন্ধে ড. নাজনীন আহমেদ প্রণোদনার প্যাকেজ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেন। এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা, প্রণোদনায় অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে যুক্ত করা, এসএমই ফাউন্ডেশন ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালুু করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, দেশে নারী-উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বাড়ায় বাড়ছে নারীর কর্মসংস্থানও। কারণ, নারী নিয়ন্ত্রিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী কর্মীরা বেশি নিয়োগ পান।

নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে এসএমই ফাউন্ডেশন পরিচালিত গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৫৪ শতাংশ নারী শুধু নিজের চেষ্টা ও আগ্রহে উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। তবে নারী-উদ্যোক্তাদের ৮১ শতাংশেরই ব্যাংক হিসাব নাই। ফলে এটা প্রমাণ করে তাদের ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা উন্নয়নে নজর দেয়া প্রয়োজন। তার মতে, নারী-উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছয়টি বাধা রয়েছে বড় অঙ্কের ঋণ না পাওয়া, ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা, পণ্য রফতানিতে বাধা, নতুন বাজার সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি, নারী-উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দক্ষতার অভাব এবং পরিবার ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের দ্বিমুখী কাজের চাপ। কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে এসব সঙ্কট আরো তীব্র হয়েছে। এসব সঙ্কট সমাধানে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসা, নারী-উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা, এসএমই ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালু, পণ্যের বাজারজাতকরণে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরিসহ বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি।

অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান বলেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসাসহায়ক পরিবেশ তৈরি করা এসএমই ফাউন্ডেশনের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে ফাউন্ডেশনের অ্যাডভাইজরি সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে নতুন ব্যবসা সৃষ্টি, ঋণসুবিধা প্রাপ্তি, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, পণ্যের বাজার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা সহায়তা পেয়ে থাকেন। আইসিটি বিষয়ক ই-কমার্স, সোস্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারেও নারী-উদ্যোক্তাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

আবারো লকডাউনঃ আতঙ্কিত শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ
২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৬ শতাংশঃ বিশ্ব ব্যাংক
ব্যক্তি করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব