মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৪:০৭ অপরাহ্ন

হলমার্ক ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চেয়ারম্যানের জামিন চায়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ২০৯ বার পঠিত

হলমার্ক গ্রুপ এবার সব ঋণ পরিশোধ করবে জানিয়ে চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের জামিন চেয়েছে। গ্রুপের পক্ষ থেকে এও বলা হয়েছে, হলমার্কের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক কখনোই টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানাননি, বরং মিথ্যা মামলায় জেলে থেকে জেসমিন ইসলাম মানসিক ভারসাম্য প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন। মানবিক বিবেচনায় হলেও যেন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে লেখা এক চিঠিতে গ্রুপের পক্ষ থেকে এই আবেদন জানান গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম। তবে এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেননি অর্থমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চেয়ারম্যানের জামিন চেয়ে হলমার্ক গ্রুপের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে উনাকে জামিন দেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। এটা আদালতের ব্যাপার। আমরা একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে অর্থমন্ত্রীকে দিয়েছি। অর্থমন্ত্রী এখনো আমাদের কোনো নির্দেশনা দেননি।’

হলমার্ক ও তার পাঁচ সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফান্ডেড, নন-ফান্ডেডসহ মোট তিন হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। হলমার্কের নন-ফান্ডেড অংশের সঙ্গে ৩৭টি ব্যাংকের ১২০টি শাখার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব ব্যাংক থেকে হলমার্ক নগদ হাতিয়ে নিয়েছে এক হাজার ৫৩৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা। নন-ফান্ডেড অংশের জালিয়াতিতে আক্রান্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরকারি সাতটি, বেসরকারি ২৫টি এবং বিদেশি পাঁচটি ব্যাংক রয়েছে।

কিন্তু অর্থমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেছেন, মিথ্যা মামলায় জেসমিনকে ফাঁসানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, হলমার্কের ঘটনায় জেসমিন ইসলামের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা ছিল। এই ১১ মামলায় তিনি জামিনে আছেন। কিন্তু জনতা ব্যাংকের ঘটনায় কম্পানির চেয়ারম্যানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর ধারা ৪০৬/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১সহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ৫(২) ধারায় মামলা হয়। এই মামলায় তিনি বর্তমানে হাজতে আছেন।

চিঠিতে বলা হয়, জনতা ব্যাংকের যাবতীয় ঋণ সমন্বয় করার পরও সান্ড্রি অ্যাকাউন্টে ৭৬ কোটি টাকা জমা আছে। এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ও অবগত। মন্ত্রণালয়ের তাগিদ এবং সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুটি চিঠি ও গ্রুপের পক্ষ থেকে দরখাস্ত দেওয়া সত্ত্বেও জনতা ব্যাংক ওই ৭৬ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংকে হলমার্কের ঋণ সমন্বয়ের জন্য পাঠাচ্ছে না। অথচ মিথ্যা মামলায় কম্পানির চেয়ারম্যান বছরের পর বছর বিনা কারণে হাজত খাটছেন। হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান ব্যাংকের টাকা দিতে কখনোই অস্বীকৃতি জানাননি, হলমার্ক এক টাকাও বিদেশে পাচার করেনি।

ঋণের সব টাকা পরিশোধ করা হবে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, হলমার্ক ৬৫টি বড় শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছিল। এর মধ্যে ৪৩টি চালু ছিল। বর্তমানে সবই ধ্বংস হয়ে গেছে। তার পরও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুসারে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব ঋণ পরিশোধ করা হবে।

জেসমিন ইসলামের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, কম্পানির চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছেন। দীর্ঘ কারাভোগের কারণে বর্তমানে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে মানসিক ভারসাম্য প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন। গ্রেপ্তারের আগে জেসমিন ইসলামের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস, হূদরোগ এবং হাইপার টেনশনে আক্রান্ত। দিন দিন তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ জন্য মানবিক কারণে, জীবন রক্ষার তাগিদে জেসমিন ইসলামের জামিন চায় গ্রুপটি।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রীর কাছে হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ লিখেছিলেন, তাঁকেসহ তাঁর স্ত্রী জেসমিনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে কারখানা চালু করে প্রথম বছর ১২ কোটি, দ্বিতীয় বছর ২৪ কোটি ও তৃতীয় বছর থেকে ১০০ কোটি টাকা করে ব্যাংকের দায় পরিশোধ করবেন। বলাবাহুল্য তা আর হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41