বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন

করোনাকালে বেসরকারী ব্যাংকের কর্মীরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০
  • ১৮৮৯ বার পঠিত

ফাত্তাহ তানভীর রানা

ঢাকা শহরের জীবনধারণ ব্যয় নির্বাহ করতে না পেরে অনেকেই নিজ গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন। এ যাওয়া শেকড়ের কিন্তু টানে নয়। মালপত্র ভর্তি পিকআপে করে ঢাকা শহর ছাড়ছে মানুষ। এ দৃশ্য এখন নতুন নয়; এ তালিকায় রয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস কর্মী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ। ভাগ্য বদলের জন্য তারা একদিন বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন! আমি একজন কর্মজীবী মানুষ। সাধারণ মানুষ হিসেবে বিষয়টি আমাকে বার বার তাড়িত করছে! মার্চ মাস থেকে সবকিছু কেমন যেন হয়ে গেল; অথচ এই বছরকে নিয়ে কতোনা ভাবনা ছিল।

লকডাউনের শুরুতে সাধারণ ছুটিতে অন্যান্য জরুরী সেবা যেমন: হাসপাতাল, থানা, সরকারী বিভিন্ন কন্ট্রোলিং অফিসগুলো, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস,প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার মত ব্যাংকও খোলা ছিল। বাংলাদেশের এই ক্রান্তিকালেও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যাংকারেরা সেবা দিচ্ছেন। বাধ্য হয়ে নয় বরং দায়িত্ত্ব থেকেই অফিসে যাচ্ছেন, যেন প্রয়োজনে সবাই ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারেন। সাধারণ ছুটিতে অফিস করা কঠিনই ছিল কারণ গণপরিবহন বন্ধ ছিল। বিশেষ সমস্যায় পড়েন নারী ব্যাংকাররা। খুব সীমিত আকারে চলতো রিকশা ও সিএনজি।

দেশের এই ক্রান্তিকালেই শুধু নয় সমস্ত বছরে অন্যান্য সময়েও যেমন: ঈদের সময়ে গার্মেন্টস কর্মীদের বেতন-বোনাস পরিশোধ, নির্বাচনে ঋণ খেলাপীদের ব্যাংকে টাকা জমা দেবার প্রয়োজন, ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়, বন্দরের পণ্য খালাসসহ সরকার নির্ধারিত অন্য সময়েও শুক্র-শনিবারে ব্যাংক কর্মকর্তারা অফিসে হাজির হয়ে থাকেন। আবার, সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতাদিও ব্যাংকের মাধ্যমেই পরিশোধ করা হয়। সরকারী ব্যাংকের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাইভেট ব্যাংক সমাজসেবামূলক কার্যক্রম করে থাকে। মানুষের টাকা জমা করা ও উত্তোলনের জন্য আস্থাশীল ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে ব্যাংক।

সম্প্রতি কিছু প্রাইভেট ব্যাংক তাদের কর্মীদের বেতন কমানোসহ অন্যান্য সুবিধাদি রদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে প্রাইভেট ব্যাংকের কর্মীদের মধ্যে অতৃপ্তি কাজ করছে। অবশ্য কোনো কোনো ব্যাংক এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষন করেনি। আবার কোন কোন প্রাইভেট ব্যাংক ও আর্থিক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের ছাঁটাইও করছেন। ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা কমানো অথবা ছাঁটাই করলেই চলমান সংকট সমাধান হয়ে যাবে এমনটি নয়। বরং আয় বৃদ্ধি এবং ব্যয় সংকোচন অথবা বাস্তবভিত্তিক অন্য কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করাই এই সংকট মোকাবিলায় সমাধান হওয়া উচিৎ। আপদকালে কর্মীদের উদ্দীপ্ত করার জন্য বোনাস দেওয়া, তাদের মোটিভেট করার জন্য উত্সাহব্যাঞ্জক বিভিন্ন কথা বলার দরকার ছিল। যারা কিনা জীবন বাজী রেখে করোনার সময়ে সেবা দিচ্ছেন! এঁদের ভেতর অনেকেই জীবন হারিয়েছেন। যাই বলেন না কেন কোনো দেশের উন্নয়নে ব্যাংকাররা অন্যতম অংশীদার। কর্মী অতুষ্টিতে ভুগলে তার প্রভাব প্রতিষ্ঠানে পড়বেই। এতে ব্যাংকাররা কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন এবং ব্যাংকিং সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেই প্রভাব কি সমাজে পড়বে না? শুধু মালিক ভালো থাকলে কি প্রতিষ্ঠানের সফলতা হয়? মালিক-কর্মী এক হয়ে কাজ করলেই না কোনো প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধিলাভ ঘটে।

এই করোনার সময়ে খরচ বেড়েছে ঢের। কিনতে হচ্ছে হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যাণ্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, মুখের শেডসহ অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী। খরচ বেড়েছে সাবান, ডিটারজেন্ট, শ্যাম্পুতে। বেড়েছে গণপরিবহন ভাড়া, অস্থির হয়েছে বাজার ব্যবস্থা। তার ভেতরে টেনশন কাজ করে কখন শরীরে ঢুকে পড়ে করোনা ভাইরাস! সাথে রয়ে গেল বেতন কমানোর হুমকি! রয়েছে ছাঁটাইয়েরও প্রচ্ছন্ন ভয়। মাঝে মাঝে ভাবি করোনায় কারো কারো বেতন কমবে, কেউ কেউ চাকরি হারাবেন, কেউ আবার হারাবেন স্বজন! কেউ কেউ ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন, কেউবা ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করবেন। তবুও বাঁচতে হবে, স্বপ্ন দেখতে হবে। সবাই মিলে এক হয়ে কাজ করে যেতে হবে দেশের অর্থনীতির ভবিষৎ বিনির্মানে।

লেখকঃ ব্যাংকার,গল্পকার ও কবি

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41