শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ ::

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াবে ২৫ ব্যাংক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২০
  • ১৩৪ বার পঠিত

তারল্য সংকট সমাধানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি খাতের ২৫ ব্যাংক। সম্প্রতি বিনিয়োগ বাড়ানো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো তাদের বোর্ডের অনুমোদন নিয়েছে। জুনের শেষদিকে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা বিএসইসিতে বিশেষ তহবিল গঠনের বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত জমা দিয়েছে।

বিএসইসির এক কর্মকর্তা যায়যায়দিনকে জানান, যদিও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিপুল সংখ্যক ব্যাংক তাদের বোর্ডের অনুমোদন নিয়েছে তবে এখনো পর্যন্ত বাজারে সে অর্থ প্রবেশ করেনি। আশা করা হচ্ছে, বেশির ভাগ ব্যাংক তাদের বিনিয়োগ শেয়ারবাজারে বাড়াবে।

শেয়ারবাজার স্বাভাবিক করতে গত ফেব্রম্নয়ারিতে প্রতিটি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকা তহবিল গঠনের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি শেয়ারবাজারের এ বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমার বাইরে রাখা হয়। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবে সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব সুযোগ দেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রম্নয়ারি পর্যন্ত।

এ নিয়ে ওই মাসে একাধিক প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ। কোন খাতে শেয়ারে এ তহবিল বিনিয়োগ করা যাবে, তাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি গত বছরের সেপ্টেম্বরে শেয়ারবাজারের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া বিশেষ তহবিল সুবিধা বাতিল করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে যারা সুবিধা নিয়েছিল, তারা নতুন নীতিমালার আওতায় আবেদন করবে। যদিও দি সিটি ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংক ৬ শতাংশ সুদের ওই তহবিলে সাড়া দেয়নি।

জানা গেছে, এ বিষয়ে সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রতিটি ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগ করতে পারবে। পাশাপাশি এ তহবিল হবে ঘূর্ণমান। ব্যাংক নিজে বা সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব তহবিল ব্যবহার করতে হবে। তবে এসব তহবিল গঠন বা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে কাউকে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের শেয়ারবাজার ও মুদ্রাবাজারের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনকারী হিসেবে ব্যাংকগুলোর ভূমিকা অনেক। শেয়ারবাজার অস্বাভাবিক উত্থান-পতন ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করে। দেশের শেয়ারবাজারে বর্তমান অবস্থায় পরিস্থিতি উন্নয়নে শেয়ারবাজারের মধ্যস্থতাকারীদের তারল্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় তারল্যপ্রবাহ বজায় রাখার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অধীন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউসকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

ওই সময়ে শেয়ারবাজারে টানা পতন ঠেকাতে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অর্থমন্ত্রীসহ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সংগঠন বিএমবিএর নেতারা গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করে বাজারের তারল্যসংকট কাটাতে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেয়। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেও একই প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বোর্ডের অনুমোদন পাওয়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে পূবালী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনসিসিসহ অন্যান্য সিকিউরিটিজ রেগুলেটর। তালিকাভুক্ত নয় এমন ব্যাংকগুলোর মধ্যে আছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক কমিশনে তাদের তথ্য জমা দিয়েছে।

বিএসইসির এক কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ তহবিল গঠন এবং এর সাথে বিনিয়োগ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন। তারা আশা করছেন, বাকি তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের তথ্য জমা দেবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুঁজিবাজারে অস্থির অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংক- সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক।

তবে শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, স্মরণকালের সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে পুঁজিবাজার। ব্যাপক সম্ভাবনাময় এ খাতটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। করোনাকালে সূচকের অবস্থা স্থবির হয়ে পড়ছে। লেনদেন যেমন বাড়ছে না তেমনি বাড়ছে না সূচক। সূচকের ওঠানামা থমকে আছে এক থেকে দুই পয়েন্টের মধ্যে।

পুঁজিবাজারের প্রাণ বিনিয়োগকারী। কিন্তু বাজারের মন্দাবস্থার কারণে ক্রমাগত কমছে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা। পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বেশি হলেও তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ খুবই কম। ছোট ছোট জমানো অর্থ বাড়তি মুনাফার আশায় তারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কম হলেও বিনিয়োগ অনেক বেশি।

কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হাতে মূলধনের বড় জোগান থাকলেও বাজারে তারা নিষ্ক্রিয়। প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ও প্রণোদনার ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা পেলেও তাদের এই নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বড় কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক থেকে মূলধন ধার নিয়ে ব্যবসা করে তারা। কারো ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও আছে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি বেড়ে যাওয়ায় তারল্য সংকটে তাদের বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। ‘ফান্ড ক্রাইসিস’ চলছে, ‘ফ্রেশ’ ফান্ড বাজারে আসছে না। আবার পুঁজিবাজারের মন্দাবস্থায় শেয়ারের দাম তলানিতে নামায় কারো কারো মূলধনও আটকে গেছে।

এদিকে পুঁজিবাজার সাপোর্টে রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ভূমিকা নিয়েও নানামুখী প্রশ্ন ঘুরছে সবখানেই। বাজার গতিশীল রাখতে সরকার থেকে আইসিবি কোটি কোটি টাকার ফান্ড পেলেও তাদের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে স্টেকহোল্ডাররা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, পুঁজিবাজার কিছু লোকের হাতে জিম্মি। এ কারণে পুঁজিবাজারে কোনো ভালো কিছু আশা করা যাচ্ছে না। পুঁজিবাজার নিম্নগতি থেকে উপরে ওঠার কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের আস্থা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41