বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:১১ অপরাহ্ন

করোনার প্রভাবে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে ইউএইর ব্যাংকিং খাত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০
  • ৫৮৮ বার পঠিত

বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি এমন আর্থিক খাত খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। করোনার প্রকোপে ত্রাহি অবস্থা এখন বৈশ্বিক ব্যাংকিং খাতেও। মন্দ ঋণ, নন-পারফর্মিং সম্পদের বৃদ্ধি ও আয় কমে যাওয়ায় মুনাফা পতনের প্রেক্ষাপটে ব্যয়সংকোচনের পথে হাঁটতে হচ্ছে খাতসংশ্লিষ্টদের। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কিছু ব্যাংক আগেই এ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নীরবে অল্প হলেও কর্মী ছাঁটাই করেছিল। কিন্তু ২০২০ সালের অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন সামনে রেখে ইউএইর বহু ব্যাংক ব্যাপক মাত্রায় কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি কঠোর ব্যয়সংকোচনের পথে হাঁটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর গালফ নিউজ।

গত মঙ্গলবার বিভিন্ন শাখার ৮০০ কর্মীকে ছাঁটাই করে দুবাইয়ের বৃহত্তম ব্যাংক এমিরেটস এনবিডি। ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন যে এমিরেটস এনবিডির মতো আগামী কয়েক সপ্তাহে কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে আরো অনেক ব্যাংক। শুধু দুবাইয়েই নয়, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) সব দেশের ব্যাংকিং খাতেই বর্তমানে একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। লকডাউন ও কভিড-১৯-এর সংক্রমণজনিত প্রভাব মোকাবেলায় জিসিসির আর্থিক নীতিনির্ধারকরা ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকজুড়ে বেশকিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করে। এসব পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত হয় অঞ্চলটির ব্যাংকিং খাতও। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংকগুলো ইনস্টলমেন্ট গ্রহণ স্থগিতের পাশাপাশি মওকুফ করে অসংখ্য ফি। একই সঙ্গে সহায়তা অব্যাহত রাখে গুরুত্বপূর্ণ এমএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগ) খাতেও। কারণ লকডাউনের মধ্যে সার্বিক ব্যবসা কার্যক্রম একেবারেই থমকে যায়।

এ সংকট থেকে উত্তরণে সরকারগুলো বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। একইভাবে ঋণ গ্রহণে উৎসাহী করতে সুদহার হ্রাসের পাশাপাশি বেশকিছু পদক্ষেপ নেয় এ অঞ্চলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। আশা করা হয়েছিল, এর মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ীরা ঋণ গ্রহণে সাহসী হবেন। একই সঙ্গে পরিশোধের ক্ষেত্রেও তাদের ঝামেলায় পড়তে হবে না। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকোচন, ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং সাধারণ মানুষের চাকরি চলে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংগুলোকে সব শেষে ব্যাপক মুনাফা পতনের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ক্যামকোর ভাইস প্রেসিডেন্ট জুনাইদ আনসারি বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর করোনার ধাক্কা সামলে উঠতে বেশ সময় লাগবে। এ অবস্থায় ব্যাংকিং খাতকে স্বল্পমেয়াদে হলেও ভুগতে হবে। এরই মধ্যে জিসিসি অঞ্চলে ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নেয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্যা হলো, লকডাউন পুরোপুরি কবে তুলে নেয়া হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিশেষ করে দ্বিতীয় দফায় ফের ভাইরাস সংক্রমণ দেখা দিলে গত কয়েক মাসে পরিস্থিতির যে উন্নতি হয়েছিল, তা ভেস্তে যাবে। আনসারি আরো বলেন, আমাদের বিশ্বাস অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু হতে আরো দেরি হলে জিসিসির ঋণ বইয়ে মন্দ ঋণের পরিমাণ আরো বাড়বে। এক্ষেত্রে খাতটিকে অর্থনৈতিক মন্দা থেকে রক্ষায় ভূমিকা রাখবে পর্যাপ্ত তারল্য ও শক্তিশালী ব্যালান্স শিট।

আলভারেজ ও মারসালের (এঅ্যান্ডএম) এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকেই ইউএইর ব্যাংকিং খাতকে কভিড-১৯-এর কারণে সম্পদের মান ও লাভজনকতা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল। এঅ্যান্ডএমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রান্তিকওয়ারি ইউএইর শীর্ষ ১০টি ব্যাংকের সম্মিলিত সুদ আয়ে পতন হয় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মূলে ছিল খাতটির নিম্ন সুদহার পরিবেশ। এছাড়া প্রান্তিকওয়ারি নিট মুনাফা কমে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। ওই সময়ে পরিচালন আয়ে পতন হয় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অথচ এর আগের দুই প্রান্তিকেই পরিচালন আয় বেড়েছিল।

সম্পদ ও মুনাফা প্রবৃদ্ধির পতনের এ পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক প্রান্তিকে আঞ্চলিক ব্যাংকগুলোর মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে পরিচালন ব্যয় সংকোচন। এমনকি কভিড-১৯ পরিস্থিতির আগেও অবসন্ন অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে অনেক ব্যাংক ব্যয়সংকোচনের উদ্যোগ নিয়েছিল। আর এক্ষেত্রে চাকরি হারাতে হতে পারে খাতটির বহু কর্মীকে। বিষয়টি বেদনাদায়ক হলেও পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাংকগুলোর কাছে অন্য তেমন কোনো পথ খোলা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41