শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ১০:০৯ অপরাহ্ন

ঋণ নেয়া ছাড়া ব্যাংকিং খাতের জন্য কোনো সুসংবাদ নেই

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০
  • ৪৭৮ বার পঠিত

রুগ্ণ ব্যাংকিং খাত দুর্বল হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এর মধ্যে অর্থনীতিতে এসেছে করোনার ধাক্কা। এ অবস্থায় বাজেটে করছাড়, আইনি কাঠামোর সংস্কারসহ ব্যাংকিং খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর কিছু পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিলেন ব্যাংকাররা। তারা বলছেন, অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে ব্যাংকিং খাত নিয়ে প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও মেলেনি।

উল্টো রেকর্ড ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রেখে নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে ৮৪ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকাই দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। যদিও অর্থবছর শেষে সরকারের ব্যাংকঋণ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ ঋণ নিয়েছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের ব্যাংকিং খাত কিছু পায়নি বলে মনে করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত দীর্ঘদিন থেকেই তারল্য সংকটে রয়েছে। সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ ঋণ নিয়েছে। এখন নতুন বাজেটে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রাই চলতি অর্থবছরের দ্বিগুণ করেছে। যদিও বছরের সাত-আট মাস যাওয়ার পরই দেখা যাবে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে এভাবে ঋণ নিলে বেসরকারি খাত ঋণ পাবে না।

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, মাজার অ্যাকুইজিশনের কথা আসবে। ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের বিষয়ে কার্যকর বক্তব্য থাকবে। কিন্তু সে রকম কিছু পাইনি। উল্টো আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি হলে আমানতকারীরা আরো নিরুৎসাহিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এডিআর ২ শতাংশ বাড়িয়েছিল, নতুন বিনিয়োগ ছাড়াই অনাদায়ী সুদ যুক্ত হয়ে ব্যাংকগুলোর এডিআর সীমা পূরণ হওয়ার পথে। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলো কীভাবে নতুন বিনিয়োগে যাওয়ার পথও রুদ্ধ হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে আর্থিক খাতে সংস্কার বিষয়ে বলেন, ব্যাংক, পুঁজিবাজার, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক খাতের সংস্কার ও উন্নয়নে সরকার নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। আর্থিক খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক শহর ও পল্লী অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, ফিনটেকসহ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবাগুলোর কথা তুলে ধরেন।

ব্যাংকঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনার বিষয়টি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও ব্যবসা খাতকে প্রতিযোগিতা সক্ষম করার লক্ষ্যে আমরা ব্যাংকঋণের ওপর সুদের হার ১ অংকের মধ্যে নিয়ে এসেছি। গত এপ্রিল থেকে এ নতুন সুদহার কার্যকর হয়েছে।

খেলাপিদের বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট জমা দেয়ার মাধ্যমে খেলাপি ঋণকে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ১০ বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল সুবিধা দেয়া হয়েছে। এর ফলে মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41