শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন

ব্যাংকে কর্মীদের উপস্থিতি বাড়াতে চীন-হংকংয়ের নতুন পন্থা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম সোমবার, ১৮ মে, ২০২০
  • ২০৩৭ বার পঠিত

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ফিন্যান্সিয়াল হাব ধরা হয় চীন ও হংকংকে। বিশ্বের নামকরা সব বিনিয়োগ ব্যাংকের কার্যালয় রয়েছে সেখানে। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্বের আর্থিক সেবা খাতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কিন্তু অর্থনীতির প্রাণ এ খাতের কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিশ্বই অচল হয়ে পড়বে। এ কারণেই ধীরে ধীরে এ অঞ্চলে নিজেদের অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। আর তা করা হচ্ছে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পর।

চীন ও হংকংয়ে ব্যাংকগুলোর কার্যালয়ে কর্মীদের প্রবেশের সময় তাদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। দাপ্তরিক সভা আয়োজনের ক্ষেত্রেও নেয়া হচ্ছে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। সভাকক্ষের আসন সংখ্যা কমানো হয়েছে। কয়েকজন বসতে পারলেও বাকিদের দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়ে সভা করতে হচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার ও মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কর্মীদের দলবদ্ধভাবে ও বাইরের খাবার খেতেও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

হংকংয়ে মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক সিটিগ্রুপ ইনকরপোরেশনের কার্যালয়ে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মীরা। হংকং এখন পর্যন্ত করোনার বিস্তার ঠেকাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু তাই বলে তো আর সুরক্ষার বিষয়ে ছাড় দেয়া যায় না। সিটিগ্রুপ তা দিচ্ছেও না। ব্যাংকটি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নিজেদের অফিসে কর্মীদের ডেস্কের মাঝে প্লাস্টিকের পার্টিশন দেয়ার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের কুয়ান টং কার্যালয়ে মেঝে পরিষ্কার রাখার জন্য রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।

বাইরের খাবার থেকেও করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাংক অব চায়না তাদের বেইজিং হাবে কর্মীদের খাবার তৈরির জন্য ব্যবহূত রন্ধনশালা বন্ধ করে দিয়েছে। যেসব জায়গায় একাধিক মানুষের কাছাকাছি অবস্থান সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, লিফট তার অন্যতম। মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান মরগান স্ট্যানলি তাদের হংকং কার্যালয়ের লিফটে ওঠানামার ক্ষেত্রে মানুষের সংখ্যা সীমিত করে দিয়েছে।

হংকংয়ে বার্কলেস ব্যাংকের শাখাপ্রধান অ্যান্থনি ডেভিস। তিনি বলেন, ‘গতকাল আমরা অফিসে ফিরেছি। আমাদের মধ্যে অনেক বেশি পেশাগত মিথস্ক্রিয়া হচ্ছে। তবে অবশ্যই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য পুনরায় ইতিবাচক কর্মপরিবেশ তৈরি করেছে।’ উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে হংকং কার্যালয়ে কর্মীদের উপস্থিতি ৬০ শতাংশ বাড়িয়েছে বার্কলেস।

নভেল করোনাভাইরাসের উত্পত্তি চীনে। বৈশ্বিক মহামারীটির প্রথম এপিসেন্টারও ছিল দেশটি। এ কারণে অফিস বন্ধের মতো পদক্ষেপ সেখানেই প্রথম দেখা গেছে। আবার সেগুলো খুলে দেয়ার ক্ষেত্রেও তারাই অগ্রগামী ভূমিকা রাখছে। লকডাউনের কড়াকড়ি শিথিলের লক্ষণ দেখা দেয়ায় গত কয়েক সপ্তাহে অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো।

চীনের ব্যাংক অব কমিউনিকেশনস কোম্পানির কর্মী সংখ্যা প্রায় ৮৭ হাজার। প্রতিষ্ঠানটি গত মার্চে তাদের বেশির ভাগ কর্মীকে কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ দেয়। গত মাস থেকে অফিসে ফিরতে শুরু করেছেন বেইজিংয়ের অন্যান্য ব্যাংকের সিংহভাগ কর্মী।

হংকংয়ে লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল করায় বিশ্বের বড় বড় ব্যাংকের কার্যালয়গুলোয়ও ধীরে ধীরে কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ছে। ব্রিটিশ বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক এইচএসবিসি হোল্ডিংস করপোরেশন বলেছে, আগামী সোমবার তাদের হংকং কার্যালয়ে ৩০ শতাংশ কর্মী অফিসে ফিরতে পারেন। ব্যাংকটির এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে গোল্ডম্যান স্যাকস গ্রুপ ইনকরপোরেশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের ৬০০ জন বা এক-তৃতীয়াংশ কর্মী বর্তমানে অফিসে বসে কাজ করছেন।

তবে চীন ও হংকংয়ের বিপরীত দৃশ্য দেখা গেছে সিঙ্গাপুরে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফিন্যান্সিয়াল হাব হিসেবে পরিচিত দ্বীপরাষ্ট্রটিতে এখনো প্রতিদিন শতাধিক কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এ কারণে সেখানে বেশির ভাগ ব্যাংক কর্মীকেই বাসায় বসে কাজ করতে হচ্ছে।

এশিয়ার অনেক ব্যাংকারই দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকার পর কর্মস্থলে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। যদিও অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ার মানে এই নয় যে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। তবে অফিসের কর্মপরিবেশে এ ধরনের পরিবর্তন লন্ডন ও নিউইয়র্কের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে। সেখানে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান অপেক্ষায় রয়েছে কবে সংক্রমণের হার আরো কমবে, আর কবে তারা অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি বাড়াবে।

মরগান স্ট্যানলি আগামী মাসে তাদের নিউইয়র্ক কার্যালয়ের কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ করে দেয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কার্যালয়গুলোয় কর্মীদের ফেরানোর বিষয়ে এখনো কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেনি জেপি মরগান চেজ অ্যান্ড কোম্পানি।

হংকংভিত্তিক কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কুইনলান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেঞ্জামিন কুইনলান বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় হংকং ও চীনে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বলে মনে হচ্ছে। এ কারণে তারা কর্মীদের কাজে ফেরানোর ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে।

ব্লুমবার্গ অবলম্বনে

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41