শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৯:১১ অপরাহ্ন

কেমন হবে মহামারী-পরবর্তী বিশ্বে চাকরির ভবিষ্যৎ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম শনিবার, ২ মে, ২০২০
  • ২৬০০ বার পঠিত

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে রাতারাতি বদলে গেছে চাকরির বাজারও। বৈশ্বিক এ মহামারী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে অর্থনীতি ও চাকরির নিরাপত্তাকে। এর প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদি। পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন পেশার লোকজনের ওপর এর প্রভাবও হবে ভিন্ন। অনেক খাত, কোম্পানি ও কর্মজীবী সম্ভবত এ বিপর্যয়ের ফলে লাভবানও হবে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এমন অনেক ইন্ডাস্ট্রিও দেখব যেগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব খাতের লোকজন তাদের চাকরি হারাবে এবং নতুন চাকরি খুঁজে পেতেও তাদের অনেক সংগ্রাম করতে হবে।

কভিড-১৯ মারাত্মক আকার ধারণ করার পর ভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারগুলো জনগণকে ঘরে এবং সেলফ কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। অনেক কোম্পানি তাদের কর্মীদের বলেছিল, বাসায় থেকে কাজ করতে। জনসমাগমও নিষিদ্ধ করা হয়। বিধিনিষেধ ও আতঙ্কের কারণে লোকজনও ভ্রমণ করা বন্ধ করে দিয়েছে।

বিমান ভ্রমণ, বাইরে ঘুরতে যাওয়া, হোটেলে অবস্থান করা, কনসার্ট ও স্পোর্টস ইভেন্টে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। এমন না যে ভাইরাসের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব শেষ হয়ে যাবে। এর পরও এটি চলতে থাকবে। এসবের আলোকেই কিছু চাকরির বদলে যাওয়া ভবিষ্যতের কথা বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করছেন।

এ বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় বিজেতা হচ্ছে অনলাইন কোম্পানিগুলো। যাদের কাজ চালানোর জন্য ইট-কাঠের দালান, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং সুপারমার্কেট চেইনের ওপর নির্ভর করতে হয় না। বিশেষ করে যাদের শক্তিশালী অনলাইন উপস্থিতি রয়েছে। এছাড়া ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি যারা রোগ নিরাময়ের কাজ করে, টেকনোলজি কোম্পানি এবং যারা বাসা থেকে কাজ করা লোকজনকে খাবার সরবরাহ করে থাকে—এসব খাত লাভবান হবে।

প্রাথমিক বিদল্যায় থেকে কলেজ সবকিছু বন্ধ হওয়ার পর থেকে সবাই গৃহবন্দি। তারা এখন অনলাইন ভিডিও গেমসে নিজেদের আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্করাও এই পথ নিয়েছে। নিজেদের বিনোদিত করতে তারা এসব গেমসের মাঝে বুঁদ হয়ে আছে। বিশেষ করে খেলাধুলা আসরগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের এই পথে হাঁটতে হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার এ সময়ে এটা আবার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার একটি উপায়ও। এ ট্রেন্ড যতদিন পর্যন্ত চলতে থাকবে ততদিন ভিডিও গেমস সেক্টরে কাজের জায়গা ও নিরাপত্তা দুটোই বৃদ্ধি পাবে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের মতে, টেক কোম্পানিগুলো এখন জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দিচ্ছে। কারণ করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে তারা বদলে যাওয়া ডিজিটাল পৃথিবীর সুবিধা গ্রহণ করতে চায়। এমনকি কোনো কোনো খাতে গণছাঁটাই এবং বিশ্ববাজারের দ্রুত পতনের কারণে বাড়তে থাকা উদ্বেগের পরও। অ্যামাজান, গুগল, অ্যাপল, মাইক্রোসফট ও নেটফ্লিক্সের মতো জায়ান্ট করপোরেশনগুলোতে প্রচুর নগদ অর্থ জমা আছে। মহামারী অধিকতর স্থায়ী হওয়ার কারণে তাদের হাতে বেশ শক্তি ও অর্থ জমা থাকবে।

এসব খাতে কাজ করা লোকজনের জন্য চাকরির সহজলভ্যতা থাকবে এবং কোনো কোনো কোম্পানিতে বেশ চাহিদাও থাকবে। যেমন অ্যামাজন এক লাখ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে গ্রাহক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে। যেহেতু মানুষ এখন গৃহবন্দি এবং বাইরে বেরোনোর কোনো সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে শপিংয়ের জন্য অ্যামাজনই সহজ সমাধান। অ্যামাজনের এ অর্জন আবার ছোট ও মাঝারি রিটেইলারদের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।

ডিপার্টমেন্ট স্টোরস, মল ও বিশেষায়িত খুচরা বিক্রেতারা ব্যবসা হারাবে এবং এর ফলে এ খাতের অনেকেই চাকরি হারাবে। এছাড়া বড় বড় নামি অনেক বড় রিটেইলার আগেই তাদের দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। ক্ষতি সামলাতে তাদের নেয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে অনেক কর্মী তাদের চাকরি হারাবে।

আরো অনেক খাত আছে যেখানে নির্মমভাবে ছাঁটাই প্রক্রিয়া চলবে। বিশেষ করে ট্রাভেল, হোটেল, এয়ারলাইনস, ক্রীড়া ক্ষেত্র, কনসার্ট ও রেস্টুরেন্ট খাত করোনার প্রকোপ শেষ হওয়ার পর একরকম ধসে পড়বে। ইউরোপে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরো অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনেক কোম্পানি বিজনেস ট্রাভেল বন্ধ করে দিয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত সফরও বন্ধ, যা বিপর্যয় শেষ হওয়ার পরও অনেকদিন অব্যাহত থাকবে।

এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। বিমান সংস্থা, বিমান নির্মাতা এবং তাদের সরবরাহকারীরা, রিসোর্ট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, স্পোর্টিং ইভেন্ট, ক্রুজ লাইনস, কনফারেন্স ও মিউজিক কনসার্টগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আকস্মিকভাবে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায়ও এসব খাতের অনেক কোম্পানি বাধ্য হবে কর্মীসংখ্যা হ্রাস করতে। আবার অনেকে দেখা যাবে ব্যবসাই বন্ধ করে দিয়েছে।

চ্যালেঞ্জা, গ্রে ও ক্রিসমাপ্লেসস নামে আউটপ্লেসমেন্ট ফার্মের দাবি, পর্যটন শিল্পে প্রায় বিশ্বব্যাপী ৮০ লাখ কর্মীর চাকরি হুমকির মুখে পড়তে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কোম্পানিগুলোতে এখন গণছাঁটাই শুরুও হয়ে গেছে।

এদিকে জেনারেল মোটরস, ফোর্ড ও ফিয়াটের মতো তিনটি বড় গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোম্পানির কাজ স্থগিত করেছে। মূলত ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার ইউনিয়নের চাপের কারণে কর্মচারীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছে তাদের। যা কোম্পানির বিভিন্ন পর্যায়ের কাজকর্মে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে। ডিলারশিপগুলো ব্যবসা হারাচ্ছে, কারণ সম্ভাব্য ক্রেতারাও পিছু হটতে শুরু করেছে। চাহিদা কমার কারণে এখানেও অনেক লোকজন চাকরি হারাবে।

রিয়েল এস্টেট তথা আবাসন শিল্পেও একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে। ভাড়াটে ও ক্রেতা দুই পক্ষই এখন পরিস্থিতির কারণে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তারা অনেকে বাসা দেখতেও আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এদিকে বাসার মালিকও অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাসের ভয়ে অপরিচিত কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। উল্টো দিকে একই ভয় সম্ভাব্য ভাড়াটে ও ক্রেতাদের মাঝেও ভর করেছে।

এদিকে নিউইয়র্ক শহরের এক কর্তা ব্যক্তি বলছেন, জুন পর্যন্ত শহরের ৭৫ শতাংশ হোটেল খালি পড়ে থাকবে। পাশাপাশি আবাসন শিল্পের এজেন্টরা ২০ শতাংশ পর্যন্ত তাদের বিক্রয় হারাতে পারে বলে জানা গেছে।

দ্রুত করোনার প্রকোপ কমানো না গেলে এসব ক্ষতির পরিমাণ যা ধারণা করা হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যা অসংখ্য লোকের ভবিষ্যেক ঠেলে দেবে চরম অনিশ্চয়তার দিকে। সূত্রঃ ফোর্বস

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41