বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১১:২৫ অপরাহ্ন

মানবতার আহ্ববান এবং ব্যাংকারদের ভাবনায় নববর্ষ

ব্যাংকবীমাবিডি
  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ৫০১ বার পঠিত

এবছর সারা বিশ্ব সহ বাংলাদেশ দিন অতিবাহিত করছে করোনার শঙ্কায়। দুনিয়াজুড়ে চলছে কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ক্রান্তিকাল। সারাবিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে এই মহামারি। মৃত্যুর তাণ্ডব চলছে দেশে দেশে।

এ অবস্থায় যেন নতুন স্বপ্ন নিয়ে এসেছে বাংলা নববর্ষ। আজ মঙ্গলবার ১৪২৭ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। বাঙালীর পহেলা বৈশাখ। হাজারো প্রতিবন্ধকতা তবু এসে গেছে নব পল্লবে, নব উৎসবে/নব জীবনের নব অনুভবে, এপ্রিলে বৈশাখ…। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার বৈশাখ বলগে গেলে বিবর্ণ। উৎসবহীন। হাসিরাশি আনন্দ বলা চলে উধাও। তবুও সময় বয়ে যায়। পুরনোকে পেছনে ফেলে আসে নতুন।

প্রকৃতি বড় রুষ্ঠ। করোনার প্রাদুর্ভাবে পর্যুদস্ত পৃথিবী। সদা দাপিয়ে বেড়ানো মানুষ ঘরে ঢুকে দরজায় খিল দিয়েছে। পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ নেই। একে অন্যের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে চলেছে শুধু। এ অবস্থায় আজ বর্ষ শুরুর দিনে সামাজিক দূরত্ব মেনে নিয়েও, মানসিকভাবে পরস্পরের কাছে থাকার শপথ নেবে বাঙালী।

গত কয়েক দশকের মধ্যে এবার জৌলুসহীন বৈশাখ দেখছে নগরবাসী। কারণ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মানুষকে ঘরবন্দী করার পাশাপাশি আনন্দহীন করে তুলেছে। গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষনা করার পর থেকেই লাগাতার বন্ধ রয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি বেসরকারি অফিস, আদালত, মার্কেট, শপিংমল,ফ্যাশন হাউস, কলকারখানা সহ সবকিছুই। শুধু নিত্যপণ্যের দোকান এবং ব্যাংক খোলা রয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য।

এবারের করোনার আঘাতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন দেশের প্রায় ২ কোটি নিম্ন ও মধ্যবিত্তের খেটেখাওয়া মানুষ। স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগার নেই। ফলে একদিকে খাবার কিনতেও পারছেন না, অপরদিকে সামাজিক মর্যাদার কারণে কারও কাছে চাইতেও পারছেন না। নীরবেই কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। বিশেষ করে খাবার ও বাসা ভাড়া নিয়ে তারা খুবই দুশ্চিন্তায়। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বর্তমানে মধ্যবিত্ত যে পর্যায়ে আছে, তা হয়তো সহনীয়। কিন্তু অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে এরাই সবচেয়ে বিপদে পড়বেন। মধ্যবিত্তদের কোনো পরিসংখ্যান সরকারের কাছে না থাকায় এদের অবস্থা আরো সুচনীয়।

সরকার দেশের সব মানুষকে করোনার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করার জন্য ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আর মাঠে যুদ্ধে নিমেছেন চিকিৎসা হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, অর্থনীতির হাসাপাতালের ডাক্তার খ্যাত ব্যাংকার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী,সেনাবাহিনী, প্রসাশনের কর্মকর্তাগণ।

সারাধরণ ছুটির মধ্যেও ব্যাংকাররা নিজের এবং পরিবারের উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ঠাসাঠাসি করে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে গ্রহীতাদের। শাখায় আগতরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিধি না মেনেই ঢুকে পড়ছেন। কে শুনে কার কথা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মাঝেই শাস্তি দিয়েও জনগনকে সামাজিক দুরত্বের আওতায় আনতে হিমসিম খাচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যাংকারদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। ব্যাংকার এবং তাদের পরিবার পরিজনদের মধ্যে করোনার আতঙ্ক বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বেশ কয়েকটি ব্যাংক শাখা লকডাউনের আওতায় আছে।

ব্যাংকগুলোয় ভাইরাসটির কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ব্যাংকের শাখাগুলোয় গ্রাহকদের চাপ এতটাই বেশি যে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা, উল্টো গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়াতে দেখা যায়। এতে করোনা ঝুঁকি শুধু বেড়েই যাচ্ছেনা ব্যাংক সংক্রমণের উৎস স্থলে পরিণত হচ্ছে মর্মে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিগত বছর ব্যাংকগুলো বর্ণিল সাজে সেজে উৎসবমূখরভাবে নবব্ষ উদযাপন করেছে। ব্যাংকিং সেবার ক্ষেত্রে নানা ধরনের ছাড় ও প্যাকেজ ঘোষনা করেছিল। বিভিন্ন ব্যাংকে মিস্টি বিতরণ করে নববর্ষ উদযাপন করেছিল।এছাড়া অনেক ব্যাংকে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছিল।

কিন্তু এবারের নববর্ষ বলতে গেলে নিরানন্দ, নেই কোন সাজসজ্জা, কোলাহল। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য ব্যাংকগুলো ছোট বড় ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য ব্যাংকিং নীতির নানা ধরনের ছাড় দিচ্ছে। ব্যাংকাররা আশা করছে নতুন বছরে করোনাকে জয় করে আবার পুরোদমে শুরু হবে ব্যাংকিং কার্যক্রম।

এবারের নববর্ষে আমরা মানবতার কল্যায়ে এগিয়ে আসি। সমাজের দরিদ্র্য নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াই। অতীতের সকল জঞ্জাল-গ্লানি ধুয়ে-মুছে আমরা সামনে দৃপ্ত-পায়ে এগিয়ে যাবো; গড়বো আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যত। করোনাভাইরাসের যে গভীর আঁধার আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করেছে, সে আঁধার ভেদ করে বেরিয়ে আসতে হবে নতুন দিনের আলো এটাই হোক আজকের দিনের প্রত্যাশা। সে সাথে ব্যাংকিং সেক্টর হোক খেলাপি মুক্ত, কোলাহলে মুখরিত হোক কলকারখানা, ব্যবসা বাণিজ্য, সকল প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক উন্নয়নে এগিয়ে যাক দেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41