বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:১৫ অপরাহ্ন

ব্যাংক কি সামাজিক দূরত্বের বাইরে?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০
  • ২২৫৩ বার পঠিত

সারা বিশ্বে লক ডাউন চলছে। বাংলাদেশেও একই অবস্থা। দেশে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে সরকারি নির্দেশনায় সব অফিস আদালত বন্ধ। জরুরী সেবার অংশ হিসেবে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, সামাজিক দূরত্ব হলো অন্য যে কোনো মানুষ থেকে অন্তত ছয় ফুটের দূরত্ব নিশ্চিত করে কথাবার্তা বা অন্য যে কোনো কাজ করা এবং যতোটা সম্ভব অপ্রয়োজনীয় বাইরে ঘোরাঘুরি বাদ দেওয়া।

সেই ১৯১৮ সালে যখন ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ মহামারি আকার ধারণ করে, তখন এবং তার প্রায় এক শ বছর পর ২০১৪ সালে ইবোলা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ও সংক্রমণ রোধে ‘social distancing’ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ষাটের দশকে যখন ‘এসিয়ান ফ্লু’ মারাত্মক আকার ধারণ করে, তখন সামাজিক দূরত্বই এর সংক্রমণ হার ৯০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে কমিয়ে নিয়ে আসে।

অতিসম্প্রতি বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করা কোভিড–১৯–এর ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়া রোধেও ইতিমধ্যেই ‘Social Distancing’ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কেনো জরুরি তা বোঝা যায় এই তথ্যেই যে-সাধারণ ফ্লুর চেয়ে করোনা ভাইরাস দুই তৃতীয়াংশ বেশি সংক্রামক। একবার আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে গেলে আপনার জন্য এই ভাইরাসকে ফাঁকি দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বয়স্ক লোকদের মৃত্যুর হার বেশি।

করোনা বর্তমানে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীময়। বাংলাদেশেও এর বিস্তুতি ঘটছে। এর মধ্যে বাঁচার উপায় খুঁজছে মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্বাস্থ্য গবেষকগণ এমন কিছু উপায়ের কথা বলছেন, যা মেনে চললে এই ভাইরাসের সংক্রমণ একটু হলেও ঠেকানো যাবে। সোশ্যাল ডিসট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব এর মধ্যে একটি বিষয়।

সামাজিক দূরত্ব এমন একটি ব্যাপার যা আসলে আমাদের হেলথ কেয়ার বা স্বাস্থ্য সেবা পদ্ধতির মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিষয়টি মেনে চলতে হবে নিজেদের উদ্যোগে, নিজেদের চেষ্টায়। তাতে সমাজের বেশির ভাগ মানুষের ঝুঁকি কমে আসবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন একেকজন মানুষ দুই বা তার বেশিজনের মধ্যে করোনা ছড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করার জন্য সোশ্যাল ডিসট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।

বাধ্যতামূলক সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গত ২৬ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২০ দিনের সাধারণ ছুটির আওতায় চলছে সারা দেশ। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য মাঠে নেমেছে বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী।

শুধু সীমিত পরিসরে খোলা আছে ব্যাংকিং সেবা। শব্দটি ‘সীমিত পরিসরে’ বলা হলেও আসলে ব্যাংকিং কার্যক্রমের সময় হয়ত সীমিত কিন্তু কাজ হচ্ছে সবই ।ব্যাংকিং সময় কম হওয়ার কারণে কোন ব্যাংকে গ্রাহকের ব্যাপক ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কারণ ব্যাংকারদেরকে এখন কম সময়ে অধীক সেবা দিতে হচ্ছে।

এ কয়দিন বিভিন্ন ব্যাংক শাখায় ঘুরে দেখা গেল অনেক শাখায় বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি বড় ব্যাংক গুলোতে গ্রাহকেরে উপচে পড়া ভীড়। কোন কোন শাখায় লম্বা লাইন পড়ে যায়।সামাজিক দূরত্ব রক্ষার যে বাধ্যবাধকতা তা পালন করা সম্ভব হচ্ছেনা।ফলে সংক্রমন ব্যাংকের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।এ পরিস্থিতে অনেক ব্যাংকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ব্যাংক কি সামাজিক দূরত্বের বাইরে?

কোন ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার লম্বা লাঠির ডগায় ছোট কাপড়ের ব্যাগের মাধ্যমে টাকা লেনদেন চালু করা হয়েছে। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে দেখা যায় ইদানিং এ ধরনের লেনদেন বিশ্বের অনেক দেশেই চালু হয়েছে। এর ফলে ক্যাশ কাউন্টার দুরত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হলেও ব্যাংকের ফ্লোর ও অন্যান্য সেবা কাউন্টারগুলোকে দুরত্ব বজায় রেখে সেবা দেয়া সম্ভব হয়না।

 

ব্যাংকারদের দুশ্চিন্ত বেশি বেড়েছে ০৬ এপ্রিল থেকে। কারণ এদিনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ১৮ জন। এ হার যদি চলতে থাকে তাহলে পরিস্থিতি কি হবে একমাত্র ভবিষ্যতই তা বলতে পারে।

ব্যাংকিং সেবা ডিজিটাল হলেও মনে হচ্ছে অনেক গ্রাহকই ডিজিটালে অভ্যস্ত হতে পারছেননা। দেশের সব ব্যাংকের টাকা জমা, উঠানো, বিল দেয়া সহ অধিকাংশ জরুরী সেবা ডিজিটালের আওতায় এসেছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে ব্যাংকে এত ভিড় কেন? আবার কোন গ্রাহকের মধ্যে উদাসিনতাও আছে, তারা মাস্ক পরেননা, সামাজিক দূরত্বও মানতে চাননা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের বৃহত্তম স্বার্থে যদি ব্যাংক খোলা রাখতেই হয় তাহলে যে এলাকায় করোনা সনাক্ত হবে সাথে সাথে এর আশেপাশের সব ব্যাংক বন্ধ করে দেয়া উচিত।সে সাথে সব ব্যাংকের অভ্যন্তরে বাধ্যতামূলক সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন হলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগ দেয়া যেতে পারে।কারণ ব্যাংক কর্মীরা সংক্রমিত হলে ব্যাংকিং সেক্টরে ভিতী ছড়িয়ে পড়তে পারে যা ব্যাংকিং সেবা দান মারাত্নকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।তাই সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত যে কোন উপায়ে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরে সামাজিক দূরত্ব সহ সমস্ত স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41