শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র্য মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসুন

ব্যাংকবীমাবিডি
  • আপডেট টাইম শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০
  • ২৫৯ বার পঠিত

বিশ্ব বিপর্যয় সৃষ্টিকারী করোনা বাংলাদেশেও ভয়ংকরভাবে এগোচ্ছে। এর অর্থনৈতিক ক্ষতি কত হবে, সেটি এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে ইতোমধ্যেই সবচেয়ে বেশি আঘাত এসেছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। এমনিতেই এ খাতের শ্রমিকরা বঞ্চনার শিকার। কোনো চুক্তি ছাড়াই কাজ করেন। যেখানে দেশের মোট শ্রমশক্তির (কর্মে নিয়োজিত) ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ (৫ কোটি ১৭ লাখ ৩৪ হাজার) মানুষ এ খাতে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অপ্রাতিষ্ঠানিক হওয়ায় এমনিতেই এ খাত প্রায় শ্রম অধিকারবঞ্চিত। এর ওপর করোনার প্রভাব দীর্ঘায়িত হলে সেখানে উদ্যোক্তারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। ফলে স্থায়ীভাবে এ বিশাল শ্রমশক্তি কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনাভাইরাস সহজেই ছড়িয়ে পড়ে মানব থেকে মানব শরীরে। বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ বাংলাদেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়লে ভয়াভহ মানবিক সঙ্কট দেখা দিবে।তাই ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কল কারখানা, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবকিছুই। সরকারের পক্ষ থেকে ভিড় এড়াতে মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। সামরিক বেসামরিক প্রশাসনকে মাঠে নামানো হয়েছে মানুষকে অযথা বাইরে ঘোরা ফেরা বন্ধ করার জন্য। ফলে রাস্তা-ঘাট খালি হয়ে গেছে, ব্যস্তা যায়গাগুলো এখন ফাঁকা।

এমন পরিস্থিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শ্রমজীবি মানুষ। রিকশা-ভ্যান সিএনজিচালক, কুলি, ফেরিওয়ালা, হকার, ফুটপাতের ছোট দোকানিদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষগুলো প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে। করোনা সংক্রামনের শঙ্কায় গত এক সপ্তাহ ধরে মানুষ গৃহ বন্দি অবস্থা আছে।

করোনায় সব বন্ধ হয়ে যাবে কিনা সেই ভয়ে টাকাওয়ালারা বেশি বেশি করে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে রাখছেন। ফলে সব জিনিসের দাম অনেক বেড়েছে। কিন্তু এই খেটেখাওয়া মানুষগুলোর একসঙ্গে অনেক কেনার টাকা নেই এবং বাড়তি দাম তাদের জন্য আরো বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রিকশায় উঠতেই চালক মোখলেস ফ্যাকাশে মুখে তাকিয়ে বললেন, ‘স্যার, দুই দিন ধইরা চালের টাকাই উঠতাছে না। সব তো বন্ধ হইয়া গেছে। আজকা আপনেই ফাস্ট প্যাসেঞ্জার। ঘরে চারজন খাওয়ার মুখ, দেশের বাড়িতেও টাকা দিতে হইতো। এখন সবাইরে নিয়া গ্রামে যাওয়া ছাড়া উপায় নাই।’

বিশ্বের অনেক দেশেই নাগরিকদের জন্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু করেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাড়ে সাত কোটি রাজ্যবাসীকে ছয় মাস বিনা মূল্যে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কেরালা বিনা মূল্যে রেশন দিচ্ছে। অন্য রাজ্যগুলোও একই পথে হাঁটা শুরু করেছে। এর আগে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াও একই সুবিধা দিয়েছিল তাদের নাগরিকদের।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। ওই বিশেষ প্যাকেজের মধ্যে ১০০ কোটি ডলার খাদ্য কর্মসূচিও থাকছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই খাদ্য সহায়তা চলবে বলে দেশটির সরকার।

এ ক্ষেত্রে ইউরোপের দেশগুলো আরও এগিয়ে। তারা করোনার কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের খাদ্য সহায়তা তো দিচ্ছে। পাশাপাশি আরও অনেক কিছু দিচ্ছে। ফ্রান্স তার দেশের গৃহহীন মানুষের জন্য হোটেলগুলো উন্মুক্ত করে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগপর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ওই হোটেলগুলোয় গৃহহীন মানুষ থাকবেন। যুক্তরাজ্য সরকার ২৫ লাখ মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

উন্নত দেশগুলোর আর্থিক সামর্থ বেশি থাকায় লক ডাউন অবস্থায় তাদের জনগনকে উন্নত সুবিধা দিতে পারছে। কিন্তু বাংলাদেশ একটি জনবহুল দরিদ্র দেশ। এদেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী এখনও দরিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে।

এদেশেও দরিদ্রদের জন্য সরকার সহযোগিতার ঘোষনা করেছে।কিন্তু সে সাহায্য প্রেয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। আবার দুর্নীতির কারনে সে সাহায্য প্রকৃত দরিদ্রের ঘরে পৌঁছবে কিনা সেখানেও সন্দেহ আছে। সরকারের একার পক্ষে দেশের বিশাল এ দরিদ্র্য মানুষকে সাহায্য করা সম্ভব নয়।

দেশের এ ক্রান্তিকাল কতদিন স্থায়ী হবে তা এখনো জানা যাচ্ছেনা। লক ডাউন অবস্থা আরো দীর্ঘস্থায়ী হলে এসব দরিদ্র্য মানুষের অবস্থা আরো মানবেতর পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। দেশের বিত্তশালী ও সামর্থবানদের দায়িত্বই বেশি। সেসাথে প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরওে উচিত তাদের সাথে মানবিক আচরন করা। শুধুমাত্র শাস্তি না দিয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিতে হবে। একে অন্যের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে দেশের এ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করা সম্ভব হবে পারব এটাই সবার প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41