শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ১০:২৮ অপরাহ্ন

সাধারণ ছুটির আওতায় ব্যাংক বন্ধ রাখার দাবি ব্যাংকারদের

ব্যাংকবীমাবিডি
  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০
  • ১৩৫২ বার পঠিত

নভেল করোনা ভাইরাস (Covid-19) বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারির আকার ধারণ করেছে।বিশ্বে এ পর্যন্ত ৫ লক্ষ ৩২ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২৪,০০০ এর বেশি।প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল আর লাশের সারি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ১১ মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে বিশ্বমহামারী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এ ভাইরাস এরই মধ্যে ১৯২টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশেও এ ভাইরাস বিস্তৃতি লাভ করছে।এ পর্যন্ত ৪৮ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মরার গেছেন ৫ জন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আগামী ২৯ মার্চ, ২০২০ থেকে ২ এপ্রিল, ২০২০ তারিখ পর্যন্ত ৫ দিন সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর আগে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে এই সময়ে খোলা থাকবে শুধু ব্যাংক।

একথা সঠিক যে,দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখে ব্যাংক খাত। সমস্যা হচ্ছে খোদ এই ব্যাংকিং খাতই করোনা ভাইরাস ছড়ানোর মাধ্যম পরিণত হতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক নোট ও মানুষের সংস্পর্সে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এদিকে ব্যাংক নোট থেকে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে বলে এরইমধ্যে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ ব্যাংকে আসছেন। এদের মধ্যে বিদেশ ফেরতরাও আছেন এবং টাকার লেনদেন করছেন। ব্যাংকে বিভিন্ন ধরনের মানুষের গমনাগমন থাকায় ব্যাংক খাতের কর্মী এবং তাদের স্বজনদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ব্যাংকারদেরকে কর্মস্থলে যেতে হলে নানাভাবে সংক্রমনের ঝুঁকি থাকছে। একজন ব্যাংকারের ঝুঁকি থাকলে তাদের পরিবার ও অন্যান্যরাও ঝুঁকির আওতায় পড়তে পারে।

অনেক ব্যাংকাররা মনে করেন, সরকারি বেসরকারি অফিস, আদালত এবং স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের মতোই ব্যাংকিং লেনদেনও কিছু দিনের জন্য বন্ধ করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিকনির্দেশনা থাকা উচিত। যেমনটি করা হয়েছিল চীন এবং অন্যান্য দেশে।’

প্রসঙ্গত, চীনে করোনার প্রার্দুভাব বেড়ে যাওয়ায় প্রথম দিকে সেখানকার ব্যাংকগুলোতে সীমিত আকারে লেনদেন হতো। চীনে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেশ কিছু ব্যাংকের শাখা বন্ধ রাখা হয়। করোনার সংক্রমনের ঝুঁকি থাকায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যেও অনেক ব্যাংক বন্ধ রাখা হয়।

দেশের সব প্রতিষ্ঠান যখন বন্ধ রাখা হয় তখন শুধুমাত্র ব্যাংক খোলা রাখা হচ্ছে। করোনার ঝুঁকিতে সারা দেশে বলতে গেলে অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই সারা দেশে বেসামরিক প্রশাসনের সাথে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করে লোকজনকে ঘরে থাকার আহ্ববান করা হচ্ছে। বাস, রেল,আকাশ, জল সহ সব ধরনের যেগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। সারা বাংলাদেশ অনেকটা অলিখিত লক ডাউনের মত অবস্থা। সংক্রমনের ভয়ে দেশের ১৮ কোটি মানুষ আতঙ্কে আছে এবং স্বইচ্ছায় নিজ গৃহে কোয়ারেনটাইন বা বন্দি জীবন যাপন করছে। ইতোমধ্যেই সরকারের সাধারণ ছুটি যতদিন চলবে ততদিন পর্যন্ত গার্মেন্টস কারখানাও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এ অবস্থায় ব্যাংকারদের অফিস করা কতটা যৌক্তিক তা প্রশ্ন রেখেছেন অনেক ব্যাংকার। তাছাড়া, ব্যাংকারদের সুরক্ষিত থাকার কোন পোশাকও নেই। অনেক ব্যাংকাররা বলছেন, মরণঘাতি এ সংক্রমনে ব্যাংকার এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হলে তার দায় কে নেবে?

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41