শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

স্বাধীনতার ৪৯তম বছরে আবার যুদ্ধে বাংলাদেশ !

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০
  • ২৭৪ বার পঠিত

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ স্বাধীনতার ৪৯তম বর্ষ অতিক্রম করে ৫০তম বর্ষে পদার্পণ ঘটলো। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার সূচনা করে। হানাদার বাহিনীর এই হামলা ও গণহত্যার বিরুদ্ধে তখনই দুর্বার প্রতিরোধ শুরু হয়ে যায়।

বাংলাদেশ বিচ্ছিন্নতাবাদের পথে হাঁটেনি। আজকের বাংলাদেশ ১৯৭১-এর ২৬ মার্চের আগ পর্যন্ত ছিল পূর্ব পাকিস্তান। পূর্ব পাকিস্তানিরা ছিল পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী। একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিচ্ছিন্নতার পথে হাঁটার কথা নয়। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ রাত ১১.৩০ মিনিটে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে এক নৃশংস গণহত্যাযজ্ঞ শুরু করে। এমনই এক পরিস্থিতিতে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়।

দীর্ঘ ৯ মাসের মরণপণ সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশমাতৃকা হানাদার মুক্ত হয়।এ যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শাহাদাত বরণ করেন, অসংখ্য মানুষ আহত হন, বহু মা-বোন সম্ভ্রমহারাহন, সম্পদ-সম্পত্তির বেশুমার ক্ষতি হয়। এত কিছুর বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা, যার প্রতীক্ষায় যুগযুগ ধরে অপেক্ষায় ছিল দেশের মানুষ।

স্বাধীনতা যে কোনো জাতির জন্য পরম আকাঙ্খার বিষয়, আত্মপ্রতিষ্ঠার অধিকার, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন, অর্থনৈতিক মুক্তি, বৈষম্যের অবসান ইত্যাদি ছিল স্বাধীনতার লক্ষ্য। এইসব লক্ষ্য অর্জনের প্রত্যাশা নিয়েই জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং বিপুল ত্যাগ ও মূল্যে স্বাধীনতার স্বপ্নের বন্দরে উপনীত হতে সক্ষম হয়েছিল।

৪৯ বছর পর জাতীকে আরেকটি যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়েছে। সে যুদ্ধ কোন মানুষের সাথে নয়, জীবানুর সাথে, ভাইরাসের সাথে, অসুস্থতার সাথে।

হঠাৎ করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রমনে স্তব্ধ করে দিয়েছে সারা বিশ্ব সে সাথে শঙ্কায় পড়ে যায় বাংলাদেশও। বর্তমানে বিশ্বের ১৯২টি দেশ ও অঞ্চলে করোনা আঘাত হেনেছে এবং প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মানুষের মৃত্যুর মিছিল। ২৫ মার্চ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী এ ভাইরাসে মারা গেছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ।বিশ্বের পরাশক্তি, ছোট বড়, ধনী দরিদ্র সকল রাষ্ট্র এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে, এ যেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

বাংলাদেশেও এ ভাইরাসের বিস্তার লাভ করেছে। করোনার কারনে দেশের সমস্ত সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত সহ অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। সারা দেশে যান চলাচল বন্ধ আছে। বলতে গেলে সারাদেশ অলিখিতভাবে লকডাউন অবস্থায় । দেশের ১৮ কোটি মানুষ  স্বইচ্ছায় নিজ গৃহে কোয়ারেনটাইন বা বন্দি জীবন যাপন করছে।

করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারা দেশে নেমে পড়েছে বাংলাদেশর ডাক্তার, নার্স, প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব এবং সেনাবাহিনী।এ এক যুদ্ধ,ভাইরাসের বিরুদ্ধে সর্বাত্নক যুদ্ধ ঘোষনা।

বাংলাদেশের এ ধরনের যুদ্ধ নতুন নয়।প্রাকৃতিক বিভিন্ন দুর্যোগের সাথে যুগ যুগ ধরে এদেশের মানুষ যুদ্ধ করে আসছে।তাছাড়া, ইতঃপূর্বে প্লেগ, গুটিবসস্ত, কলেরার মতো দুরারোগ্যের সাথে যুদ্ধ করে তা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।স্বাধীনতাত্তোর ৪৯ বছরে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে জেতার কোন বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, দেশ প্রেমিক চিকিৎসক, নার্স, সাধারন জনগন, সরকার, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ ও প্রচেষ্ঠায় বাংলাদেশ করোনাভাইরাস থেকে অচিরেই পরিত্রান পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Bankbimabd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbankbimabd41